আ ন ম সেলিম, পটিয়া(চট্টগ্রাম) :
চট্টগ্রামের পটিয়ায় দলের দুঃসময়ে বিএনপিতে ভিড়ছেন আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হাইব্রিডরা। চট্টগ্রাম -১২
পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দাবি করে বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী লোকদের দলে অনুপ্রবেশ করান এবং তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা সুযোগ-সুবিধা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে এসব অনুপ্রবেশকারীকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে বসানো হয়। এতে করে দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হয়ে যায়।
বর্তমানে দলের দুঃসময়ে সেই সুবিধাভোগী ও অনুপ্রবেশকারীরাই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তারা প্রকাশ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের মাঠে নেমে ভোট প্রার্থনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ধলঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক শফিউল আলম বাদশা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল বশর প্রকাশ ‘চিনি বশর’এই দুইজন এক সময় সামশুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন ছিল। এখন প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনামের সাথে খোলা ট্রাকের উপর দাড়িয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। তাছাড়া একইভাবে সাবেক হুইপের অনুগত বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক,ইউপি সদস্য সহ বিভিন্ন পদ পদবিধারীদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট সম্বলিত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এরকম প্রতিটি ইউনিয়নে বিগত সময়ে
আওয়ামী লীগের পরিচয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও এখন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছেন।
যুবলীগ নেতা সাইফুল আলম সাইফু বলেন, “যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে ছিল, আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তাদের দীর্ঘদিন অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আর বিএনপি-জামায়াত ঘরানার লোকদের দলে ঢুকিয়ে নেতা বানানো হয়েছে। আজ তারাই দল ছেড়ে চলে গেছে।”
আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, অনুপ্রবেশ রাজনীতির ফলেই পটিয়ায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। এখন সময় এসেছে এসব অনুপ্রবেশকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার। দলের সুসময়ে আমাদের কোন মূল্যায়ন করা না হলেও এই দুঃসময়ে ঠিকই মামলার আসামী হয়েছি। সামশুল হক চৌধুরী সহ কোন নেতা যোগাযোগ করেননি। নিজের পরিবারের টাকায় অনেক কষ্টে জামিন হয়েছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সাবেক এমপি মন্ত্রীরা মামলা হামলার শিকার নেতাকর্মীদের খবরাখবর নিলেও পটিয়া এর বেতিকক্রম। পটিয়া এখন অভিভাবকহীন বললেই চলে। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও সংগঠন পুনর্গঠন না করলে ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি আবারও তৈরি হবে। নতুন অভিভাবক সৃষ্টির বিকল্প নাই বলে তারা মন্তব্য করেন।