নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজারের কলাতলী ভাঙার মোড়ে নির্মাণাধীন পার্ল অব প্যানোয়া হোটেলে আবারো দিন দুপরে হত্যা ও ডাকাতি এবং চাঁদাবাজির অর্ধশতাধিক মামলার আসামি সন্ত্রাসী বুলেট জসিম এর নেতৃত্বে হামলা।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আজ বিকেল ৩টার দিকে কলাতলির বুলেট জসিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল নির্মাণাধীন প্রকল্পে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
আর পুরো ঘটনার বেশ কিছু দৃশ্য ধরা পড়েছে প্রকল্পের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একদল লোক নির্মাণাধীন প্রকল্পের ভেতরে প্রবেশ করছে।
এরপর প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে চলে ভাঙচুর।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বাউন্ডারিতে লাগানো নকশাসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বুলেট জসিমের নেতৃত্বেই এই দলটি হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, জমি ও প্রকল্পসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এবার প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
ভাঙচুর থেকে রেহাই পায়নি প্রকল্পের অফিসও।
অফিসের ডেস্ক, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দেওয়ার জন্য রাখা এক লাখ টাকা নগদ নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
ভাঙচুর করা হয়েছে বিদ্যুতের মিটারও।
আপস–
ভয়েজওভার–
প্রশ্ন উঠছে, সন্ত্রাসীরা কতটা বেপরোয়া হলে প্রশাসনের অপরাধ দমনে বিশেষযান চলাকালে দিনের আলোয় জনবহুল একটি পর্যটন এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল কীভাবে একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে ঢুকে প্রকাশ্যে এমন হামলা চালায়?
আরও বড় প্রশ্ন, এই হামলার নেপথ্যে কি শুধু ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরাই, নাকি রয়েছে অন্য কোনো ইন্ধনদাতা বা প্রভাবশালী মহল?
হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের পরিচয় ও ভূমিকা দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অভিযুক্ত জসিমের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে একই প্রকল্পে এর আগেও রাতে হামলা হয়েছিলো
অভিযোগ কারার পরেও কোন ব্যাস্তা নেইনি প্রশাসন।
দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে এমন হামলার অভিযোগ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, পর্যটন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।
এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে না এলে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
CCTV ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তের দাবি তাদের।
একই সঙ্গে লুট হওয়া এক লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি নির্মাণাধীন প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে তারা।