প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপন দখল করে ঘর নির্মাণকারী – সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী আনোয়ার গ্রুপের হাতে বন কর্মকর্তা মেহেরাজসহ আহত অনেক 

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের রাঙ্গুনিয়া -

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর জড়ো হওয়া লোকজনের হামলায় এক বন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর)  দুপুরে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের এভিয়ারি পার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহত মেহরাজ উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া বন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জার। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে কর্মরত।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়া ইকো পার্কের জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল জড়ো হয়ে মেহরাজের ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহরাজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ইকো পার্কের পিকনিক স্পট ও গাড়ি রাখার জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় অপরদিকে ৫ একর ভূমিও উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাধার মুখে পড়ে পুরো অভিযান শেষ না করেই রেঞ্জ অফিসে ফিরে যান তারা।

তার অভিযোগ, উচ্ছেদের জের ধরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে একদল লোক কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে ব্যারিকেড দেয়। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু ঘটনাস্থলে যান এবং তাকে সেখানে যেতে বলেন।

মেহরাজ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গেলে সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা আমার ওপর হামলা চালায়। তিনি অনেক চেষ্টা করেও আমাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।’

হামলায় তার কপাল, ডান চোখের নিচে, মাথা ও কাঁধে আঘাত লাগে বলে জানান তিনি।

মেহরাজের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে জবরদখলকারী হিসেবে পরিচিত আনোয়ার, আহমাদুল হক, মোহাম্মদ হোসেন ও জাহেদসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়। জাহেদ ছাড়া বাকি তিনজন বনভূমি দখলের একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তিনি।

মেহেরাজ আরো বলেন, আমার উপর হামলাকারী আনোয়ার ৬টি মামলার আসামী ও আহমাদুল হক প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দখল করে ঘর তৈরীর অপরাধে মামলার আসামিও মাহবু প্রকাশ পঁচাইয়া পাহাড় কাটার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত।আরেক সন্ত্রাসী মো: হোসেন ৫টি বন মামলার আসামি।

এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। উচ্ছেদের পর তারা আরও লোকজন জড়ো করে সড়কে ব্যারিকেড দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উত্তেজিত সন্ত্রাসীরা বন কর্মকর্তাকে মারধর করে।

তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা আহত হওয়ায় বন বিভাগকে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এই আনোয়ারের নেতৃত্বে  পার্কে লুটপাট চালিয়ে হরিণ, পাখিসহ কয়েকশ বন্যপ্রাণী নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় পার্কে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত ক্যাবল কারও ভাঙচুর করা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.