চকরিয়ায় নির্বাচনের শুরুতেই সহিংসতা, আ:লীগ প্রার্থীর অফিস ভাংচুর

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপসিল অনুসারে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার চকরিয়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর অফিস ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর অফিস ভাংচুর করেছে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনের শুরুতেই সহিংসতা ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে। ঘটনার পর দুই প্রার্থীর সমর্থমকদের মধ্যে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০জন ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বহদ্দার কাটা পূর্ব স্টেশন এবং পুচ্ছালিয়া পাড়া স্টেশন এলাকায় পৃথক দুটি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বদিউল আলম বলেন, রাতে ঢাকা থেকে দলীয় নৌকা মনোনয়নের চিঠি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অফিস ভাংচুরের বিষয়টি মুঠোফোনে জানতে পেরেছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকার নির্বাচনী অফিসে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর টাঙ্গানো ছবিতে গোবর নিক্ষেপ করে অবমাননা করা হরে। এছাড়াও অফিসের চেয়ার-টেবিল ও পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়েছে। তবে এই ভাংচুরের পেছনে বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত বলে তিনি দাবী করেছেন। তিনি আরও বলেন, নৌকার বিজয় নিশ্চিত দেখে জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে রাতের অন্ধকারে এমন গর্হিত কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী বদিউল আলম। অপরদিকে, বিএমচর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ায়ম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিকল্পিত ভাবে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে ভাংচুর চালায়। নৌকার সমর্থকদের ইটপাটকেলে অফিসে থাকা অন্তত ১০-১২ জন লোককে আহত করা হয়েছে। ঘটনার সময় আমি পাশের ওয়ার্ডে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ইউনিয়নের মানুষকে অশান্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে নৌকার প্রার্থী। পরাজয় জেনে তার কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনের শুরুতেই সহিংসতা সৃষ্টি করে। তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ট বিচারের দাবী জানিয়েছেন। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে দু’পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.