সৈয়দ আককাস উদদীন
নির্বাচনের রাতেই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নে অস্ত্রসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী।
রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাগরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাকে স্থানীয়রা আটক করে। তার সঙ্গে আরও তিন সহযোগীকে আটক করা হয় এ সময়। এরপর তাদের মারধর শুরু করলে খাগরিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন ও তার অনুসারীরা গিয়ে উদ্ধার করে তাকে জসিমের বাড়িতে নিয়ে আসে।
পরে খাগরিয়া ও আমিলাইশ ইউনিয়নের নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘কয়েকজন বহিরাগতকে আটকের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।’
স্থানীয়রা জানান, রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশাতে স্থানীয়রা তল্লাশি চালায়। এ সময় ওই সিএনজি অটোরিকশায় চারজন ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্র হাতে দেখার পর ওই চারজনকে মারধর শুরু করে।
পরে খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে চারজনকে তার খাগরিয়ার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে আনার পর দেখা যায়, ওই চারজনের একজন দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী।
স্থানীয়রা জানান, আটকের সময় তার হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খাগরিয়ায় বেশ কিছু বহিরাগত যুবক অস্ত্রসহ প্রবেশের খবরে বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন পাহারা বসায়। নির্বাচনের আগের রাতে অস্ত্রসহ ঘোরাঘুরি করায় বহিরাগত এই চারজনকে মারধর করে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয়রা বহিরাগত সন্ত্রাসী মনে করে চারজনকে মারধর করেছে। তাদের আমি উদ্ধার করতে যাই। গিয়ে দেখি সেখানে পার্থ সারথী চৌধুরী রয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। এরপর বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সাহেবকে অবহিত করি। উনি আমার বাড়িতে এসেছেন।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন ৬নং ওয়ার্ড দিয়ে পার্থসারথি নিজ ইউনিয়ন চরতী যাচ্ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীরা নৌকা প্রতীকের লোক ভেবে পার্থসারথি চৌধুরীসহ ৪জনকে আটক করে মারধর করেন।
তবে পার্থসারথির হাতে কোন অস্ত্র ছিলোনা।
এটা কে বা কাহারা দিয়ে পার্থসারথিকে সাজানো হয়েছে।