বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিবেদক:

চলমান তাপদাহের মধ্যেই ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্রামগুলোতে। এখানে বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে!

যে কোনো সময় চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। কোনো কোনো এলাকায় একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে গ্রীষ্মের গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

গ্রাম ছাড়া শহর এলাকাতেও ইদানীং লোডশেডিং আবারও দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে এই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও শহরে পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো বলছে, যথেষ্ট বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তারও সদুত্তর দিতে পারছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ বিভাগ।

বৈশাখের কাট ফাটা রোদ আর গরমের দাপটে জনজীবনে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন মিলছে না বিদ্যুৎ।

অস্বাভাবিক ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে তাই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নাকাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নিদারুণ এই কষ্ট বর্ণনাতীত।

সবার মুখে একই কথা- এমন বিদ্যুৎ সংকট এর আগে কখনও দেখেননি কেউ। যতই দিন যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট ততই যেন বাড়ছে।

এতে অফিসে-আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। জেনারেটর, আইপিএস ও ইউপিএস কোনো কিছুই দিয়েই অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। পচতে শুরু করেছে বাড়ির ফ্রিজের মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও ফলমূলও।

ভোর নেই, সকাল নেই, দুপুর নেই, সন্ধ্যা নেই, রাত নেই- বিদ্যুতের আসাযাওয়া চলছে প্রতি আধাঘণ্টা পর পর। কোনো কোনো এলাকায় ১০-২০ মিনিট পরপরও লোডশেডিং দিচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ।

এদিকে, বিদ্যুৎ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ দেখাচ্ছেন অনেকে।

সাতকানিয়া পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক মাদার্শা এলাকার হারুন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। গভীর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি বন্ধ থাকে, এই সুযোগে চুরি ডাকাতির পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।

একই উপজেলার কেঁওচিয়ার আমেনা বেগম বলেন, আগের মতো আবারও লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না। সেই আগের মতো লোডশেডিংয়ের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সপ্তাহখানেক ধরে বিদ্যুতের সমস্যা খুব বেশি হচ্ছে।

একই উপজেলার ছদাহা এলাকার হাসিনা খাতুন বলেন, আধা ঘন্টা বিদুৎ থাকলে কয়েক ঘণ্টা থাকে না, এইভাবে চলতে থাকে। তারাবি-সেহেরি-ইফতারেও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না

সোনাকানিয়ার বাসিন্দা জুনায়েদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। দুঃসহ গরমের সঙ্গে দিনে-রাতে চলছে ভয়াবহ লোডশেডিং।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, প্রচন্ড তাপদাহের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিভিন্ন সময় অনিচ্ছাকৃত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সমিতিটি জানায়, এটি চট্টগ্রামের একার নয়, এটি এখন জাতীয় সমস্যা। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাদেরকে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.