পটিয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে মানুষ অতিষ্ঠ

পটিয়া প্রতিনিধি
পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,ইউনিয়নের হাতিয়ারঘোনা গ্রামের আবদুল ছবুরের ছেলে নুরুল আবছারের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কিশোর গ্যাং লিডার নুরুল আবছারের দলে রয়েছে হিলচিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মো. বেলাল,মমতাজ মিয়ার ছেলে মো. মনসুর,মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে নেজাম উদ্দিন,আফজল মিয়ার ছেলে মো. হেলাল, মৃত সাছি মিয়ার ছেলে আবু তৈয়ব,মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে মো. মহসিন, আবুল কাশেমের ছেলে সরু মিয়া,মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে রিয়াজ উদ্দিন, আবদুল মালেকের ছেলে আবদুল জব্বার (এক বছরের সাজা প্রাপ্ত),মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাজ্জাত সহ ১০/১২ জন কিশোর। তাদের নেতৃত্বে এলাকায় প্রতিনিয়ত মারামারি হানাহানি লেগে আছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলিতে এদের দেখা মিলছে। তারা দিন রাত নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তারা চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং,মদ,গাঁজা ও ইয়াবা সেবন ও বিকিকিনি সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। মূলত শোভনদন্ডীর এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় উঠতি বয়সি তরুনরাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের চুলের বাহারি কাট, নম্বরপ্লেট বিহীন মোটর সাইকেলে রাস্তা দাপিয়ে বেড়ানো, আর সুযোগ বুঝে সিএনজি গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ও পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া। রাতের বেলা সারা রাত জেগে থেকে মানুষের গরু,ছাগল, হাঁস, মুরগী, কবুতর,কলা,পেপে ইত্যাদি গাছের ফল ফলাদি ও পুকুর থেকে মাছ চুরি করা, মানুষের গাছগাছালি কেটে নিয়ে যাওয়া তাদের পেশা ও নেশা। কখনো স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। বেবি আকতার এ্যানি নামের একজন স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেস্টা কালে বাধা দেওয়ায় মা সহ ঐ ছাত্রীকে কুপিয়ে আহত করে। তারা কখনো এলাকায় জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে টাকার বিনিময়ে কোনো এক পক্ষের হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নেয়। এ সবই এই কিশোর গ্যাংয়ের নিয়মিত কর্মকাণ্ড। তারা বেশির ভাগ বিএনপি জামায়াত সমর্থিত হলেও এক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় জড়িত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে । তাদের হাতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ লাঞ্চিত হচ্ছে। গত ১০ এপ্রিল মামলার স্বাক্ষী আমির হোসেন, ২০ এপ্রিল রিক্সা চালক মো. জামাল ও তার স্ত্রী, ৫ মে আবু নাসের শিমুল সহ ৩ জন, ২৩ মে খোরশেদ সহ ৮ জন,২৬ মে ইমরান,২৭ মে নজির আহমদ, ২ জুন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এম এ খালেক খান তাদের হামলার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারায় এবং মো. সাকিব নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। ৬ মে সিএনজি চালক আবু তালেবকে কিশোর গ্যাং লিডার আবছারের নেতৃত্বে ধাওয়া করলে ভয়ে হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতন সহ ১০ থেকে ১৫ টি মামলা রয়েছে। হাতিয়াঘোনা হিলচিয়া কাজীর জামে মসজিদ কমিটির সদস্য মনজুরুল ইসলাম কাজল জানান, নুরুল ইসলাম ও আবদুল মোনাফ টাকার বিনিময়ে এই কিশোর গ্যাং কে ব্যবহার করছে।জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত ৬ জানুয়ারী কিশোর গ্যাং নির্মূলে পটিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে বিট পুলিশিং কার্যক্রম সংক্রান্ত এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, পটিয়া পৌর এলাকা সহ পটিয়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নকে কিশোর গ্যাং মুক্ত করা হবে। আমরা মাদক, কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিরো টলারেন্সে রয়েছি। পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, যেখানেই এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.