সাতকানিয়া -খাগরিয়ার ফুলের সুবাসে আবারো রক্তের গন্ধ 

প্রতিদিনই ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ -ফুলের রাজ্যে এখন রক্তের গন্ধ ভেসে বেড়ায়-

সৈয়দ আককাস উদদীন 
সাতকানিয়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জন আহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করলে তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও গুলি বর্ষণ করে হামলাকারীরা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড নুরু মার্কেটের পশ্চিমে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আহতরা হলেন খাগরিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ (২০) একই এলাকার মৃত অছিউর রহমানের ছেলে শফিকুর রহমান (৭০)।
জানা যায়, খাগরিয়া ইউনিয়নে ৪ নম্বরে ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন এবং একই ওয়ার্ডের নাসির উদ্দিনের মধ্যে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ গেলে স্থানীয় দিল মোহাম্মদকে দেশীয় অস্ত্র (এলজি) সহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

 

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিবলী নোমান  বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খাগরিয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ অস্ত্রসহ দিল মোহাম্মদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া আকতার হোসেন নামে একজনকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গত ২মাস ধরে অন্তত ১২টি গুলাগুলির ঘটনা ঘটে সর্বশেষ ১৫দিন আগেও ৭টি ঘরে প্রকাশ্যে ডাকাতি করে বাড়িঘর ভাংচুর করার অভিযোগ তোলেছেন মো:নাছির প্রকাশ ফুল নাছির।
সরেজমিনে গিয়ে ফুল নাছিরের  বাড়িসহ অন্তত ৫টি ঘর ভাংচুরের প্রমাণ মেলে।
অপরদিকে এই ভাংচুর ও লুটপাট নিজেরা করিয়েই প্রতিপক্ষের নামে কুৎসা ও মামলা সাজাচ্ছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন খাগরিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো: ছালাম।
তিনি বলেন একাধিক হত্যা মামলার আসামী শফিকুর রহমান বাচুর নবায়নবিহীন অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে এসব করে যাচ্ছেন তারা।
নবায়ন বিহীন এবং ওই অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে বেশকিছু গোয়েন্দা সংস্থার নথিপত্র প্রতিবেদককে সরবরাহ করেন ইউপি সদস্য মো: ছালাম।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন প্রতিদিনই ঘটছে গুলাগুলির ঘটনা কিন্তু মূল ঘটনার উৎপত্তি হচ্ছে কিছুদিন আগে দেলোয়ার হোসেনের ৭ম শ্রেনী পড়ুয়া ছাত্রকে একই এলাকার  ফুল নাসিররা মারলে ওই থেকেই রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
অপরদিকে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো:আক্তার হোসেন বলেন, মূলত তাদের সামাজিক আধিপত্যের জেরেই এই দ্বন্দ্ব লেগেই আছে।
এই দ্বন্দ্বের জের কোন রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের জের কিনা প্রশ্ন করা হলে তা তিনি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন,মূলত ফুল নাসিরদের সাথে আরেকটা গ্রুপের মারামারি হানাহানি লেগেই থাকে, ওই দ্বন্দ্বের জেরে অনেক খুন হয়েছেন এবং রক্ত ঝরা পরিবেশ যেন থামছেনা।
তিনি এও বলেন যে এই ঘটনার নতুব সুত্রপাত হচ্ছে দেলোয়ারের ছেলে খাগরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীতে পড়ে, তাকে নুরু মার্কেট এলাকায় কোন কারণ ছাড়াই বেদড়ক মারধর করা হলেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এদিকে  স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা মো:নাসির বলেন,মূলত এটা গেল গত  সাংসদ  নির্বাচন থেকে আমরা যখন বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে  এলাকায় জোয়ার তুলেছি, তখন থেকেই আমাদের প্রতিপক্ষরা প্রকাশ্যে জব্বারের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
তখন থেকেই আমাদের সাথে তাদের ঝামেলাটা প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
এবং ছালাম মেম্বারদের নিয়ন্ত্রাধীন একটি কিশোর গ্যাং এই ঝামেলাটা থামতে দিচ্ছেনা।
ওই কিশোর গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করেন দেলোয়াররা,এবং তারা এই ইউনিয়নে চুরি ডাকাতি মাদকের রাজ্য কায়েম করেই চলছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন পুরো চট্টগ্রামে ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত একটি এলাকার নাম খাগরিয়া,অথচ ওই ফুলের রাজ্যে এখন রক্তের গন্ধ ভেসে বেড়ায়।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.