চকরিয়া হারবাং- বালুখেকো নাজিম আতংকে এলাকাবাসী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় নদী ও ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও উপজেলার হারবাংয়ে সেটা মানছে না অলিখিত বালু খেকো নাছির উদ্দিন।

তার অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও বালু সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। হারবাং ভান্ডারির ডেপার ছড়া খাল তীরবর্তী অসংখ্য গ্রাম রাতদিন কয়েকডজন সেলো মেশিনের গর্জনে কেঁপে উঠে। ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসা, ব্রীজসহ শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। অথচ প্রশাসন দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায়।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলের এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়দের।

অবৈধভাবে ছড়াখাল থেকে সেলো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বালু খেখো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয় কালের কন্ঠের প্রতিনিধিসহ তিন সাংবাদিক।

জানা যায়, উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে স্বর্ণমহল খ্যাত এই বালু মহলকে ঘিরে নাজিম উদ্দিন, তার ভাই শাহাব উদ্দিন সশস্ত্র দেন পাহারা। কেউ প্রতিবাদ করলেই জীবন হুমকির মুখে। শব্দ ও বায়ু দূষনসহ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীনের ভয়ে গ্রামের শত শত পরিবার বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। এছাড়াও গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলোও ধ্বংসের দারপ্রান্তে। ফসিল জমি, নদী, ছড়াখাল থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও। কিন্তু তবুও থেমে নেই নাজিম উদ্দিনের বালু ও মাটি কাটা।

অভিযোগ রয়েছে, নাজিম উদ্দিন বালু- মাটি খেকো সেই সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কেটে বিক্রি করে হয়েছে অর্ধ কোটি টাকা মালিক। পাহাড়ের মাটি কেটে করেছে বহুতল ভবন।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ছড়াখাল তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, নাজিম উদ্দিন মাটি ও বালু ও মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন। দিনরাত ট্রাকে মাটি ও বালু পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ধসে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ভেঙে গেছে বিভিন্ন ব্রিজ। আবার বালু তোলার কারণে ছড়াখাল তীরবর্তী ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

তারা আরও জানান, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারসহ তারাবির নামাজ পড়ে বিশ্রামের জন্য চেষ্টা করলেও গাড়ির প্রচন্ড শব্দে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তার সাথে বাতাসে বালুর ছড়াছড়িতে অনেকেই শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা। মাটি খেকো নাছির প্রভাবশালী হওয়ায় নানাভাবে স্থানীয় প্রশাসকে দুর্ভোগের বিষটি জানালেও কোন বাবস্থা গ্রহন করেননি।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দিন বিগত সময়ে আ’লীগের পরিচয়ে সুবিধা নিয়ে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি আয় করেছে। একাধিক ছড়াখাল ও ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত রোববার সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় চকরিয়ায় কর্মরত তিন সংবাদকর্মী। তাঁরা হলেন-কালের কন্ঠের ও আজাদী প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক।

ওই এলাকার আশপাশের এলাকায় সরেজমিন ঘুরে বালু উত্তোলনের ভিডিও ও ছবি ধারণ করার সময় বালু উত্তোলনের শ্রমিকেরা চিৎকার শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নাজিম উদ্দিন। ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের মাটিতে পুঁতে ফেল বলে শ্রমিকদের হামলার নির্দেশ দেন। এর পরপর হামলা শুরু হয়। প্রথমে সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু হয়। এ সময় ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। ইকবাল ফারুকের ডান হাতে কোপ দিলে হাতের তালু কেটে যায়। তিন সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় নাজিম উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫ জনের অজ্ঞাত আসামি করে চকরিয়া থানা মামলা রুজু করা হয়।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, উপজেলার ভ্রাম্যমান আদালত পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করা হবে।

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আরও বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী যেই কেউ হউক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, নাজিম খুবই প্রভাবশালী তার রয়েছে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী তাই তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.