পটিয়ায় চামুদরিয়া খালের ভাঙন রোধে কাজ শুরু, স্বস্তিতে এলাকাবাস

 

আ ন ম সেলিম, পটিয়া (চট্টগ্রাম):

দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর অবশেষে পটিয়ার চামুদরিয়া খালের ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে খাল তীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হিলচিয়া চামুদরিয়া বাজার এবাদতখানা সংলগ্ন এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা ও খাল তীর মজবুত করার কাজ চলছে। খালের উত্তর পাড়ে ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তাহের জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙনে ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে এলাকার মানুষের। সাম্প্রতিক সময়ে ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়ে গেলে এলাকাবাসীর আন্দোলন ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়।

ভাঙনকবলিত হিলচিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি। এবার কাজ শুরু হওয়ায় কিছুটা আশার আলো দেখছি। তবে কাজ যেন অস্থায়ী না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”

শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, “খালের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। এখন যে কাজ শুরু হয়েছে, তা দ্রুত ও টেকসইভাবে শেষ করা জরুরি। নইলে বর্ষা এলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।”

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওর-১) এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশেলল জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। “বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে,” বলেন তিনি।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অস্থায়ী জিওব্যাগ নয়—চামুদরিয়া খালের পুরো অংশে সমন্বিত ও স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে প্রতি বছরই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে হাজারো মানুষের।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.