দেশে ফেরার দুইদিন পর সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসা থেকে জকিগঞ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি। চারদিন পর মঙ্গলবার সকালে জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মরদেহের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পোড়ানো ছিল এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারসহ ২৫ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি তিনি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসায় ওঠেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শফি। তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং তার পেছনে এক যুবক বসা ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও ওই যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ওই যুবককে পরিবারের কেউ চিনতে পারেননি।
পরদিন শফির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বোন আসমা জাহান সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। চারদিন পর জকিগঞ্জের হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহতের ভাগনে মারজান মাহমুদ রুহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তার মামাকে সুপরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আলামত নষ্ট করতে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর সিআইডির একটি দল পরিচয় শনাক্ত করে এবং পরে স্বজনরা মরদেহটি শফির বলে নিশ্চিত করেন। মোটরসাইকেলযোগে শফির সঙ্গে যাওয়া যুবককে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে শনাক্ত ও আটক করা গেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় দায়ের করা জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সজিব হোসেন জানান, যেহেতু শফি হত্যার শিকার হয়েছেন, তাই ঘটনাটির তদন্ত এখন জকিগঞ্জ থানা পুলিশ করছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) বিষয়টি তদন্তে যুক্ত রয়েছে।