সাতকানিয়ায় ‘মাদককান্ডে’ জামায়াত কর্মী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

৯জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে -

 

আব্দুল আলম, সাতকানিয়া

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শাহাদাত হোসেন (৩২) নামে এক চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে তাদের সাতকানিয়া ও চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জনার কেঁওচিয়া মাদারবাড়ি (ফররুখ চেয়ারম্যান) বাড়ি এলাকার মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩১) ও লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল পদুয়া হোসেন সিকদার পাড়া এলাকার মাওলানা ফয়েজ আহাম্মদের ছেলে ইসমাইল (২৭)।

 

এর আগে মধ্যরাতে নিহতের মা ছায়েরা খাতুন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে পিচ্চি কামাল নামে এক আসামি ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় কামাল কয়েকমাস জেলে খেটে সম্প্রতি জামিনে বের হয়। এরপর শাহাদাত নিহত শাহাদাত তাকে ধরিয়ে দিয়েছে এমনটা দাবি করে আসামিরা তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৬ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে শাহাদাত সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় তার চা দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় আসামিরা তার উপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

 

পরে শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে শাহাদাতের মৃত্যু হয়।

 

এদিকে থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও রাজনৈতিকসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মাদক মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, নিহত শাহাদাতের মামলায় উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সত্যপীরের দরগাহ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে ও চট্টগ্রাম নগরী থেকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মোট ৯জনের বিরুদ্ধে এজাহারনামীয় মামলা দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.