জাহাঙ্গীর আলম শামস কক্সবাজার থেকে –
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হলেও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠন করে গণভোটের রায় কে মেনে নিতে গড়িমসি করছে। প্রায় সত্তর ভাগ মানুষের রায় কে অবজ্ঞা করে বিএনপি ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। গণভোট কে পাশ কাটিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া কখনো সম্ভব হবে না। যতদিন বিএনপি সরকার জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করবে ততদিন জনগণের এই আন্দোলন চলবে। গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে জনগণ বিএনপি কে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে বাধ্য হবে। কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য গণভোট দেওয়া হয়েছিল সেই গণভোট মেনে না নেওয়ায় এখনো কাশ্মীরি জনগণ কে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুতরাং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের সত্তর ভাগ মানুষের রায় কে সম্মান প্রদর্শন করুন অন্যথায় জনগণ আপনাদের কে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে।
০২ মে শনিবার কেন্দ্র ঘোষিত গণমিছিল কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি আরো বলেন, জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও আমার ফলাফল মেনে নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছি। সরকারের মেয়াদ দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে সকল কর্মকাণ্ডে সরকার কে আমরা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে পাশ না করে পুরনো কাঠামোতে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই এখনো সময় আছে বাদ দেওয়া অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাশ করে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা কে পূরণ করতে হবে। অন্যথায় রাজপথেই ফায়সালা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন বলেছেন, গণমানুষের গণভোটের গণরায় অবশ্যই সরকার কে মানতে হবে। গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করার কোন বৈধতা এই সরকারের নেই। গণভোটের রায় কে অমান্য করে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। জনগণকে বোকা বানিয়ে নিজেদের মতো করে দেশ পরিচালনা করবেন সেই সময় এখন আর নেই। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সেক্রেটারি আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইউনূস, জেলা এনসিপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম বাহাদুর, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। উপস্থিত ছিলেন এনসিপি জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ সাঈদ, এলডিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, এনসিপি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাইয়ান কাশেম, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর কফিল উদ্দিন চৌধুরী, শহীদুল আলম বাহাদুর, শহর সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল প্রমুখ।