চাঁদাবাজির অভিযোগে ওসি সহ একাধিক আসামি, পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আলোচিত অপহরণ ও চাঁদা দাবির মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে বিচারিক প্রক্রিয়া। পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি গ্রহণ করে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই মামলায় নতুন করে তদন্তের পথ খুলে গেল।

সোমবার (৪ মে) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এর বিচারক মো. শাখাওয়াত হোসেন এ আদেশ দেন। আদালত মামলাটি অধিকতর নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দায়িত্ব দেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে ওই প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদী ডা. জাহাঙ্গীর আলম নারাজি আবেদন করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডা. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এতে রাউজান থানা-এর সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই টোটন মজুমদার, এসআই শাফায়েত আহমদসহ পাইওনিয়ার হাসপাতাল-এর চেয়ারম্যান ডা. ফজল করিম (বাবুল), পরিচালক মনজুর হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল নোয়াপাড়ায় তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার সময় তৎকালীন এসআই টোটন মজুমদার তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অজুহাতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখান। প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টি করে তার কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এছাড়া, অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আসামিরা মিলে ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল তারিখ দেখিয়ে একটি মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাদীর দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে সাজানো।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম তার আবেদনে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সহকর্মীদের রক্ষার জন্য মিথ্যা ও সাজানো তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ফলে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

আদালত তার আবেদন আমলে নিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন, যা মামলার পরবর্তী অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.