মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন,কক্সবাজার থেকে
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা এলাকায় বিচারপ্রার্থী নারীকে কুপ্রস্তাব ঘটনায় ওসির রহস্যজনক নীরবতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টির হয়েছে ।
ঈদগাঁওর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন এক চরম বিপর্যয়ের মুখে। একের পর এক নৃশংস অপরাধ সংঘটিত হলেও থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই, বরং পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে বিচারপ্রার্থী নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক অভিযোগ।
দরগারোডে ব্যবসায়ী সাঈদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও ভাদিতলায় ডাকাতির ঘটনায় যখন এলাকা জুড়ে আতঙ্ক, তখন ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গিয়ে সাবেকুন নাহার নামক এক নারী যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, তা পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাবেকুন নাহারের অভিযোগ, তিনি বিচারের আশায় থানায় গেলে এএসআই অন্তু বড়ুয়া এবং বেতার অপারেটর আলী তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে অনৈতিক প্রস্তাবের জালে আটকে ফেলার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, “থানায় গেলে আমাকে কক্সবাজারে (হোটেলে) যাওয়ার কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। যখন আমি তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি হইনি, তখন তারা আমাকে সরাসরি হুমকি দেয় যে, তাদের কথা না শুনলে কোনো বিচার হবে না।” একজন অসহায় নারী যখন তার ওপর হামলার বিচার চেয়ে থানায় যান, তখন পুলিশের এমন পৈশাচিক রূপ কেবল আইনি পেশার অবমাননাই নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভূমিকা। ভুক্তভোগী নারী এএসআই ও অপারেটরের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ওসির কাছে বারবার অভিযোগ জানালেও তিনি কেবল ‘করব, করব’ বলে দীর্ঘ সময় ধরে কালক্ষেপণ করছেন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে ওসির এমন রহস্যজনক নীরবতা এবং দায়সারা ভূমিকা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ওসি কি তার অধস্তনদের এমন বিতর্কিত ও অমানবিক কর্মকাণ্ডকে আড়াল করছেন, নাকি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ?
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ওসির প্রশ্রয় না থাকলে এএসআই বা অপারেটর কি বিচারপ্রার্থী নারীকে এভাবে কুপ্রস্তাব দেওয়ার দুঃসাহস পেত?
এদিকে, ভাদিতলায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদের গুলিবর্ষণ ও লুটপাটের পর আলামত হিসেবে তাদের ফেলে যাওয়া জুতা পড়ে থাকলেও পুলিশের দেখা মেলেনি। একদিকে ব্যবসায়ী হামলার বিচারপ্রার্থী নারীকে হয়রানি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের চূড়ান্ত ব্যর্থতা সব মিলিয়ে ঈদগাঁও থানা যেন এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাবেকুন নাহারের তোলা অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি থানা প্রশাসনের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার এক চূড়ান্ত নজির।
সচেতন মহলের মতে, ওসি যদি অবিলম্বে নিজের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে না পারেন এবং এএসআই ও অপারেটরের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন, তবে ঈদগাঁওবাসীর শেষ ভরসার জায়গাটিও হারিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ এখন শুধু বিচারই চাইছে না, বরং ঈদগাঁও থানার ওসি’র এমন নির্লিপ্ত ও ব্যর্থ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলছে। মানুষ জানতে চায়, পুলিশের কাজ কি নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া, নাকি বিচারের নামে হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাবের বাণিজ্য করা?