ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের প্রেস রিলিজ দিয়ে ভিটামিন -এ প্লাস ক্যাম্পেইনের সভা শেষ করলেন সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ক্যাম্পেইনের আওয়াজ হাসপাতালের বাউন্ডারিতেই বন্দী -
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে গণমাধ্যমকে অন্যতম অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে’র সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এ.টি.এম. মনজুর মোর্শেদ, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ সাদত ইসলাম মিরাজসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের কোনো প্রতিনিধিকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমনকি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়েও কোনো সাংবাদিক আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্যই হলো শতভাগ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো। আর এ লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম। অতীতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি জাতীয় স্বাস্থ্য কর্মসূচির আগে সাংবাদিকদের নিয়ে আলাদা অবহিতকরণ সভা করত। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় প্রশ্ন উঠেছে, কেন গণমাধ্যমকে দূরে রাখা হলো?
একাধিক সাংবাদিক বলেন, যখন জনগণকে সচেতন করার প্রয়োজন, তখন সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে অবহিতকরণ সভা আয়োজনের যৌক্তিকতা কী? প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও যারা তথ্য জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন, তাদের কেন ডাকা হলো না?
তাদের দাবি, সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার ফলে ক্যাম্পেইনের প্রচার সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক অভিভাবক সময়মতো তথ্য না-ও পেতে পারেন।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণমাধ্যমের সমন্বয়ের ওপর। সেখানে গণমাধ্যমকে উপেক্ষা করা শুধু দুঃখজনকই নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকেও দুর্বল করে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচিতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙেরভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা মনে করছেন, এটি কেবল আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয় নয়; বরং তথ্যপ্রবাহে গণমাধ্যমকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দেখার একটি প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।
মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে’র বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাসপাতালের এক কর্মচারী প্রতিবেদককে বলেন, ভুঁইফোঁড় কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে কিছু খরচ দিয়ে কর্তৃপক্ষ সভার প্রচার করার দায়িত্ব দিয়েছেন।