ঘুস ডিএফও ভাগ পেলেও বদলী করেছেন আমাকে- আক্ষেপ রেঞ্জার জহিরুলের
অভিযুক্ত উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে প্রতিবেদন-ডিএফও
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগে চলছে চরম অনিয়ন-দুর্নীতি, ডিএফও’র নাম ভাঙিয়ে গুনেগুনে ঘুষ নেন বাঁশখালীর ছনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।
অভিযোগ ওঠেছে উপর মহলের নির্দেশে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচার সিন্ডিকেট থেকে মাসোহারা নেন এই জহির।

জহিরুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনজ সম্পদ পাচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মাছের ঘের থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাছ পাচারের সঙ্গে জড়িত কথিত লাইনম্যান হাসেমের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২২ হাজার টাকা করে স্বয়ং ডিএফও এম এ হাসানের নাম ভাঙিয়ে আদায় করেন জহিরুল ইসলাম। রেঞ্জার জহিরুল ইসলাম চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ডিএফও এম এ হাসানের নাম ভাঙিয়ে সরাসরি বস্তা ভরে টাকা ঘুস নিয়ে গণনা করার সময় একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে ভাইরাল হলে জহিরুলকে বদলী করা হয়।
জহিরুলের বদলী শাস্তি কিংবা স্বাভাবিক বদলী কিনা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা দূর্নীতির নথিপত্রের কি অবস্থা এমন বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের ডিএফও এম এ হাসান বলেন, ভাই একজন রেঞ্জারকে কোর্টের বনমামলা পরিচালনা করতে দেয়া মানে তো সেটা স্বাভাবিক বদলী নয়।
তখন প্রতিবেদক ডিএফও এম এ হাসানকে পাল্টা প্রশ্ন করেন তাহলে আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে এত বড় দূর্নীতির ধামাচাপা কি শুধু বদলীতেই শেষ হয়ে যাবে?
তখন তিনি বলেন না তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে ডিএফও’র নাম ভাঙ্গিয়ে ঘুসের বিষয়ে ছনুয়া রেঞ্জের সাবেক এই রেঞ্জার জহিরুল বলেন-আমাকে ভাই আউট সোর্সিং এর স্টাফ আনোয়ারে শেষ করে দিছে।
এমন বক্তব্য প্রতিবেদককে দিয়ে তিনি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলেন আমার দূর্নীতির ভাগ কমবেশি সবাই পেয়েছে কিন্তু ফাঁসিয়ে দিয়েছেন আমাকে।তিনি আরো বলেন ভাই আমাকে বদলী করেছে সমস্যা নেই নিউজ করারও দরকার নেই। আপনি স্টাফ আনোয়ার আর উপকূলীয় ডিএফও এম এ হাসানকে একটা বাঁশ দেন আমি আপনাকে সাপোর্ট দিবো ভাই।
এদিকে স্টাফ আনোয়ার প্রতিবেদককে বলেন,ভাই দুনিয়ার যত অপরাধ উপর মহল জানে জানে বলে সব করছে জহিরুল, অথচ আমি করি ছোট চাকুরী আমাকেও সন্দ্বীপের ওপারে বদলী করে দিছে।
এদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সবাইকে ডিএফও এম এ হাসানের ক্যাশিয়ার হিসেবেও নিজেকে জাহির করেন এই জহির।
এই জহিরুল ইসলাম গত ৪/৫দিনে এমন বক্তব্যের ইঙ্গিত বহন করে ডিএফও এম এ হাসানের প্রতি অভিমানও প্রকাশ করেন।
তবে ডিএফও’র চেয়ে তার ক্ষোভ আউট সোর্সিং স্টাফ আনোয়ারের প্রতি।
জহিরুল ইসলাম বলেন,ডিএফওকে ভাই লাইন করা যাবে কিন্তু এই আনোয়ার আমার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করছে।
জহিরুলের আমলনামা -০১