মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
টানা বর্ষণে লোহাগাড়া আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা মাদ্রাসা সড়ক,পুরাতন থানা সড়ক, দরবেশহাট ডিসি সড়ক এবং পোস্ট অফিসের দক্ষিণ পাশের বেশ কিছু সড়ক তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়ার কারণে, পুরাতন থানার সামনের এলাকা এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী অংশগুলোও দ্রুত জলমগ্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তাঘাট ও কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওইসব এলাকার পানিবন্দী মানুষদের।
এদিকে লোহাগাড়া থানার সকমনের এলাকার একমাত্র পানি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে বন্ধ করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী চক্র, ফলে ঐ এলাকার শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে পানি বন্দী। এ বিষয়ে কয়েকদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। গত ৩ দিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের সরকারি নম্বরে বার বার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন নিয়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে বলছেন প্রভাবশালী হওয়াতে সেখানে প্রশাসন নিরুপায়।
অন্যদিকে অতি বৃষ্টিতে নদী-
খাল-বিল ও ছড়ায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করছে । এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে। বুধবার সকাল থেকে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়ার টংকাবতী খালের পানি উপচে ও লোকালয়ে ঢুকছে। এর ফলে মল্লিক সোবহান, হাজিরপাড়া, চৌধুরীপাড়া, বেপারী পাড়া শিলপাড়াসহ,আশেপাশের নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় পানি উঠে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখনও পানিবন্দি।
এছাড়া টংকাবতীর খালের পানি ঢুকে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনগর, পুটিবিলা, চুনতি, বড়হাতিয়া ও কলাউজানের কয়েকটি এলাকাতেও পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে। আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টিতে তাঁর ইউনিয়নে সর্দানী পাড়ার ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। ইতিমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়া প্লাবিত হয়েছে এবং উত্তর হরিনা ওঝা পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘর ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, ডলু খাল এবং হাতিয়ার খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পানিবন্দী মানুষদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।