বিএনপি নেতার ওপর হামলা মামলার পলাতক আসামি মাদক সম্রাট সালমান র‍্যাবের জালে

 

টেকনাফ(কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রশিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি সালমানকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। তিনি সাবেক আলোচিত সমালোচিত বদির ভাগিনা নামে এলাকায় রাজত্ব করেছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, আটক সালমান (৩২) টেকনাফ পৌরসভার উত্তর জালিয়া পাড়া এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে।

র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়ক আ. ম. ফারুক জানান, শনিবার (১৯ জুলাই) ভোরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ফুলবাগ সড়ক চাউল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে টেকনাফের আলোচিত চাঁদাবাজি ও গুরুতর জখম মামলার ২ নম্বর আসামি সালমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাবের তথ্যমতে, গত ২ জুন টেকনাফ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড হাঙ্গার ডেইল এলাকায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে সালমান ও তার সহযোগীরা ঠিকাদার আব্দুর রশিদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে আত্মগোপনে থাকা সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সালমানের বিরুদ্ধে রাজনীতি, হত্যার পরিকল্পনা, অস্ত্র ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সালমান দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের মাদক চোরাচালান ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সালমান সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ভাগিনা হিসেবে পরিচিত। তার প্রভাব ব্যবহার করে সালমান নাফ নদী সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সালমানের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা নাগরিকসহ একটি অস্ত্রধারী দল সক্রিয় ছিল। জালিয়া পাড়া এলাকায় তার একটি দুই তলা ভবন রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। এছাড়া টেকনাফের উপরের বাজার এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিপুল সম্পদের মালিক। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সালমানের ভয়ে অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মারধর, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতেন। এছাড়া আগস্টের পর ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলেও স্থানীয়রা জানান।

টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত ওসি সুকান্ত জানান, টেকনাফ পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রশিদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায় করা মামলায় মোঃ সালমান ২ নম্বর পলাতক আসামি। শনিবার র‌্যাব-১৫ এর একটি টিম কক্সবাজার সদরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি জানান, ৭ জুলাইয়ের মামলা নম্বর ৪৫১/২৬ (জিআর মামলা নং-২৪)-এ সালমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে রবিবার সকালে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.