চকরিয়ায় সাংবাদিকদের হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলা: প্রধান আসামি বালুদস্যু নাজিম ২ দিনের রিমান্ডে

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তিন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি আলোচিত ‘বালুদস্যু’ নাজিম উদ্দীনকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (২২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার এসআই ফরিদ হোসেন আসামি নাজিমের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছিলেন।

 

সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন তিন সাংবাদিক—ছোটন কান্তি নাথ (দৈনিক কালের কণ্ঠ ও আজাদী), এম জিয়াবুল হক (দৈনিক সংবাদ, সুপ্রভাত ও একুশে পত্রিকা) এবং এ কে এম ইকবাল ফারুক (দৈনিক আমার দেশ ও পূর্বদেশ)। বালুদস্যু নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাঁদের ঘিরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় সাংবাদিক ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের হাতের হাড় ভেঙে যায়। সাংবাদিক ইকবাল ফারুককেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। বর্তমানে গুরুতর আহত সাংবাদিক জিয়াবুলের হাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

 

এই হামলার ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে নাজিম উদ্দীনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার ১ নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে গত ৩০ জুন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

বুধবার রিমান্ড শুনানির সময় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে নাজিম উদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হয়। সাংবাদিকদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন, এডভোকেট লুৎফুল কবির, এডভোকেট মঈন উদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.