লোহাগাড়ায়’ চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ইয়াবাসহ’ আটক ৬

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে এক দম্পতি, একটি জিপের চালক এবং আরও তিন কারবারিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা জিপ ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার চুনতি ও আমিরাবাদ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি টয়োটা জিপকে (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৫৬৭৮) থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ওসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহর নির্দেশনায় থানা ভবনের সামনে কৌশলগত ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি আটক করা হয়। তল্লাশিতে জিপটির ইঞ্জিনের বাম পাশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আল মামুন (৪০), তার স্ত্রী ইসমাত জেরিন (৩৮) এবং চালক মোহাম্মদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, আল মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।

একই দিন বিকেলে আমিরাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে চেকপোস্টে হানিফ সুপার বাসের যাত্রী মো. সিদ্দিককে (৪৮) সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের কথা স্বীকার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষার পর তার শরীর থেকে ৭৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চুনতি এলাকায় আরেকটি চেকপোস্টে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ইলিয়াছ হাবিবকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকায় হানিফ সুপার বাসের যাত্রী মিজানুর রহমানের (২৯) দেহ তল্লাশি করে আরও ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পৃথক চারটি ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার সকালে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যবহার করে যাতে কোনো মাদকচক্র ইয়াবা পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.