লোহাগাড়া ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি :
আসন্ন লোহাগাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ, মতবিনিময় ও জনসংযোগ। এরই মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৬ নম্বর লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সৌদি আরব প্রবাসী কমিউনিটির পরিচিত মুখ আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদের নাম।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাকে ঘিরে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ ৬ নম্বর লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মজিদার পাড়ার মরহুম মুহাম্মদ খুলুমিয়ার ছেলে। তিনি স্নাতক শিক্ষায় শিক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি মজিদার পাড়া সমাজ উন্নয়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, কর্ণফুলী টাওয়ার-চট্টগ্রামের সভাপতি এবং লোহাগাড়া সমিতি-চট্টগ্রামের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া লোহাগাড়া ফোর এইচ ক্লাব ও একুশে পরিবার লোহাগাড়ার সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
প্রবাসে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সৌদি আরব শাখা, মদিনা প্রবাসী ফোরাম, মদিনা বাংলাভিশন দর্শক ফোরাম, সিপ্লাস টিভি দর্শক ফোরাম ও চুনতি সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল পরিচালনা কমিটি মদিনা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বিজনেস ফোরামের আহ্বায়ক এবং সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ঐক্য পরিষদ, লোহাগাড়া প্রবাসী সমিতি-সৌদি আরব ও গারাঙ্গিয়া আলীয়া মাদ্রাসা তোলাবায়ে সাবেকিন প্রবাসী কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বেও ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাসে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন আবদুস সামাদ আজাদ। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণের কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন।
৬ নম্বর লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করেন, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকবেন। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন নেতৃত্ব চান তারা।
সচেতন মহলের কেউ কেউ মনে করেন, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে আবদুস সামাদ আজাদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আমি কখনো ক্ষমতার মাধ্যম হিসেবে দেখিনি; বরং মানুষের সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেছি। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এলাকার জনগণ যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন এবং দায়িত্ব দেন, তাহলে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসংযোগ, রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় সিদ্ধান্ত ও ভোটারদের মনোভাব তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা ও রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।