দাপুটে বনকর্মী সুদর্শন: একই ডিভিশনে ১০বছর, পৈতৃক ভিটিতেই যখন চাকুরী- নেপথ্যে ডিএফও’র আশীর্বাদ?

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের করের হাট স্টেশন -

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের আওতাধীন করের হাট রেঞ্জের করের হাট স্টেশনে দায়িত্বরত ফরেস্ট গার্ড মি.সুদর্শন দীর্ঘ ১০বছরেরও বেশী সময় ধরে একই ডিভিশনে চাকরী করে আসছিলেন।

বদলীর তোয়াক্কা তো করেননা বরং নিজ পৈতৃক ভিটি করের হাট এলাকায় হওয়ায়,এবং  একই পাড়ার স্টেশনে চাকুরী তাই তার ভয়ে তটস্থ উত্তর বনবিভাগের  এসিএফ ও ডিএফও থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জারগণ।

একটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭সালে যারা এফজি (ফরেস্ট গার্ড)হিসেবে যোগদান করেছেন, তাদের অনেককেই ডিভিশন ট্রান্সফার (বদলী)করা হয়েছে। কিন্তু করের হাট ইউনিয়নে বাড়ি হওয়া সত্বেও করের হাট স্টেশনসহ একই ডিভিশনে ১১বছরের কাছাকাছি চাকুরী করার পরও বদলী করা হচ্ছেনা করের হাট স্টেশনে বর্তমানে কর্মরত সুদর্শনকে।

 

একটি নথিতে দেখা যায়, সুদর্শন কক্সবাজার থেকে এসে উত্তর বনবিভাগে যোগদান করেছেন গত ১০/২/২০১৬ ইং তারিখে।

কিন্তু সদ্য যোগদান করা উত্তর বনবিভাগের ডিএফও ড.আবু নাসের মোহসিন হোসেন সাক্ষরিত একটি পত্রে চলতি মাসের ১৭ই আগষ্ট ২২.০০.০০০.৭০৭.০৫.৪৫.২৬.১৯৪০ তে মো:কামরুজ্জামান, চুন্নু হাওলাদার,গিয়াস উদদীন চৌধুরী, মো: আব্দুস সাত্তারসহ মোট ৪জনকে ডিভিশন বদলী করেন।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বদলীকৃত গার্ডগণ ২০১৭সালের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগে যোগদান করেন।

এখানে বনকর্মীদের অভিযোগ- ২০১৭সালের মাঝামাঝি এসে ডিভিশন বদলী হলেও ২০১৬সালের শুরুতে এসে সুদর্শনকে বদলী না করে উল্টো উত্তর বনবিভাগের লোভনীয় স্টেশন করের হাটে করা হয়েছে বদলী।এটা কি করের হাট এলাকার স্থানীয় হওয়ার জন্য বিশেষ সুবিধা? নাকি বর্তমান ডিএফও কিংবা সাবেক ডিএফওদের ম্যানেজ করার যথাযথ পুরস্কার?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা দৈনিক সকালের সময় ও চট্টগ্রাম সংবাদকে বলেন-নিজের ইউনিয়নে বা নিজের থানায় চাকরীস্থল হওয়ার সুবাদে গার্ড সুদর্শন  চাকরীর বিধির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাব  বিস্তার করে ইতিমধ্যে কোটিপতি বনে গেছেন।

এদিকে প্রায় ১১বছর ধরে পৈতৃক ভিটিতেই চাকুরী করা করের হাট স্টেশনের ফরেস্ট গার্ড সুদর্শনকে কল করা হলে তিনি বলেন- ৭/৮ বছর হবে আমাকে এই ডিভিশন থেকে বদলী করা হচ্ছেনা সেটা।তবে আমার বিরুদ্ধে আনীত অন্য সকল অভিযোগ মিথ্যা।

অভিযোগের বিষয়ে ডিএফও ড.আবু নাসের মোহসিন হোসেনকে ২বার কল করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

পরে অবশ্যই ডিএফও ড.আবু নাসের মোহসিন হোসেনকে দৈনিক সকালের সময় ও চট্টগ্রাম সংবাদ পত্রিকা থেকে বলা হচ্ছে লিখে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।

 

স্থানীয় ভাবে আরো  অভিযোগ ওঠেছে, করের হাট স্টেশনে সুদর্শন দায়িত্বে আসার পর থেকেই দিন দিন বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্ম বেড়ে যাচ্ছে।

এবং তাকে(সুদর্শন)  অফিসিয়ালি বেশকয়েকবার সতর্ক করা হলে তখন তিনি নিজেকে সবসময় একজন এফজি(ফরেস্ট গার্ড) পরিচয় দিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানেন বলে নিজেকে আঁড়ালে রাখার চেষ্টায় থাকেন।

অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ  -এই সুদর্শন যেহেতু নিজ থানা এলাকায় চাকুরী করেন, সেহেতু করের হাট স্টেশনে বিভিন্ন সময় অভিযানে বালিবাহী ও কাঠবোঝাই গাড়ী আটক হলে- তিনি ওই গাড়ীর ড্রাইভার ও মালিকদের এলাকাভিত্তিক পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাদের বাড়িতে গিয়েও মামলার দেনদরবার করে থাকেন।

 

এবং এরই ধারাবাহিকতায় অন্য গার্ডদের তুলনায় তার ইনকাম বেশী হওয়ায় ডিএফও কার্যালয়ে একটি অংশ ভাগ দিয়ে, সবসময়  নিজের ডিভিশনে চাকুরী করার বন্দোবস্ত করেন এই সুদর্শন ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.