হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ইউপি সদস্যের ষড়যন্ত্রের শিকার ইউএনও
সাতকানিয়ায়-ইউএনও'র টাকায় গরু দেখার দায়িত্বকে রটানো হচ্ছে কুৎসা, নেপথ্যে কি বটবাহিনী?
এম.মোর্শেদ -সাতকানিয়া
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মহামান্য হাইকোর্টের একটি আদেশকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে, উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমানে ইউপি সদস্য মো: মহিউদ্দিনের রোষাঁনলে পড়েছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
গতকাল মঙ্গলবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মহিউদ্দিনের সাথে কোরবানির সময় বলা একটি কথোপকথনকে ভিন্ন ভাবে রটিয়ে করা হচ্ছে ভয়াবহ অপপ্রচার।
ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কর্তৃক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনকে বলতে শোনা যাচ্ছে কোরবানির জন্য একটি গরু দেখতে।
এবং নিজের পয়সায় ভালো গরু দেখার দায়িত্ব দেন ইউএন’র বিশ্বস্ত হিসেবে গোটা উপজেলায় পরিচিত তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনকে।
এদিকে মেম্বার মহিউদ্দিন উক্ত কথা গুলোকে ইউএন’র অনুমতি ছাড়া (যা ফৌজদারী অপরাধ)রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার মানবিক ইউএনও খ্যাত খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের মানহানি করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ হাইকোর্টের একটি রায়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসিম উদদীনকে ফেরত দেয়ার আদেশটি মূলত বাস্তবায়ন করেছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
মহামান্য হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করার জন্য সোনাকানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করেছিল এই মেম্বার মহিউদ্দিন।
কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর ছিলেন এই ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
ফলে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি পত্রের আলোকে হাইকোর্টের রায়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানোর বৈধতা দেয়ার একটি চিঠি ইস্যু করেন এই ইউএনও।
মূলত, তখন থেকেই সাতকানিয়া উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট বটবাহিনীর চোখের দুশমনে পরিণত হন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।তারই ধারাবাহিকতায় – গতকাল গরু কান্ড রটিয়ে কুৎসা রটানোর দায়িত্ব নেয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন এমন মন্তব্য করেছেন সাতকানিয়ার সচেতন মহল।
একদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই রেকর্ড ছড়িয়ে দিয়ে নিজেই রাতে রেকর্ডটি সত্য নয় মর্মে আবার ফেসবুকে একটি বিবৃতি দেন ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন।
এবং গতকাল রাতেই ইউএনও’র সাথে ছড়িয়ে পড়া রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে পুনরায় কথা বলেন মেম্বার মহিউদ্দিন।
ওই কথোপকথনে মহিউদ্দিন নিজেই স্বীকার করে বলেন,স্যার ওদিন গরুতো স্যার আপনি আমার থেকে চাননি তবে আমাকে গরু দেখার জন্য একটা বাজেটের মধ্যে ভালো গরু কিনে দেয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
স্যার এই ভূয়া রেকর্ডটা কারা করছে তা আমি জানিনা।আমি স্যার দু:খিত। ওই কথোপকথনে মেম্বার মহিউদ্দিন ৫বার স্বীকার করেছেন ইউএনও গরু চাননি তবে তাকে ইউএনও’র টাকায় ভালো গরু দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন।