চাঁদাবাজি মামলার আসামি হওয়ার পর মুখ খুললেন আরমান বাদীকে চেনেন না দাবি, নোটিশে ভিন্ন বক্তব্য
শাহজাহান চৌধুরীর পিএস নন দাবি করে আরমানের লিগ্যাল নোটিশ
এম. মোর্শেদুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় আসামি হওয়ার পর জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে নিজের বর্তমান পেশাগত সম্পর্ক নেই দাবি করে গণমাধ্যমকর্মীদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মো. আরমান উদ্দিন (৩৩)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পাঠানো ওই নোটিশে তিনি দাবি করেন, সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি আর শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। আরমান উদ্দিনের পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এন.এইচ. এম সাকিব নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম আদালতে করা একটি নালিশি মামলায় আসামি হয়েছেন আরমান উদ্দিন। লোহাগাড়া উপজেলার প্রবাসী আমির হোসেন নামের মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দেশের প্রথম সারির প্রায় সকল গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে আরমান দাবি করেন, মামলার অভিযোগের কোথাও তাকে শাহজাহান চৌধুরীর পিএস হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি মামলার সঙ্গে দাখিল করা নথিপত্রেও তার সঙ্গে শাহজাহান চৌধুরীর কোনো ছবি নেই। একারণে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এর প্রতিবাদ জানান আরমান। ওই প্রতিবেদনে তার ও শাহজাহান চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করেন তিনি।
লিগ্যাল নোটিশে আরমান বলেন, তিনি অতীতে শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে পেশাগতভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তবে সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি ওই দায়িত্বে নেই। ফলে মামলার সংবাদে তার অতীত পেশাগত পরিচয়কে প্রধান পরিচয় হিসেবে উপস্থাপন করায় পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, গত ৮ আগস্ট থেকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আরমান সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ২০ আগস্ট কথিত ঘটনার সময়ও তিনি সৌদি আরবে ছিলেন বলে দাবি করে এ-সংক্রান্ত নথিপত্র তার কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, নির্বাচনের পরও শাহজাহান চৌধুরীকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নানানভাবে সহযোগিতা করেছেন আরমান। সংসদ ও এলাকায় নানা কাজে আরমানই শাহজাহান চৌধুরীর সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। তাছাড়া অতীতে লোহাগাড়া থানায় করা একটি জিডিতে আরমান নিজেই শাহজাহান চৌধুরীর পিএস হিসেবে নিজের পরিচয় উল্লেখ করেছেন। এরপর কবে নাগাদ তিনি পিএস পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তা- কোথাও ঘোষণা দেননি।
বাদীকে চেনেন না দাবি, নোটিশে ভিন্ন বক্তব্য
সংবাদ প্রকাশের পর মামলার বাদী আমির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন, তিনি আরমান উদ্দিনকে চেনেন না। এমনকি আরমানের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা পরিচয় নেই বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, আরমানের পক্ষে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, তর্কিত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে বাদী প্রবাসে থাকা অবস্থায় দেশে এসে বিষয়টি মীমাংসা ও সমাধান করে দেওয়ার জন্য আরমানকে অনুরোধ করেন। পরে দেশে এসে বাদী আরমানের বিরোধী পক্ষের প্ররোচনা ও প্রভাবে তাকে মামলায় আসামি করেছেন বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
ফলে একদিকে বাদীর দাবি, তিনি আরমানকে চেনেন না; অন্যদিকে আরমানের পক্ষের আইনজীবীর পাঠানো নোটিশে বাদীর সঙ্গে আরমানের যোগাযোগ এবং বিরোধ মীমাংসার জন্য অনুরোধ করার কথা বলা হয়েছে। দুই পক্ষের এই বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
আরমানের দাবি, তর্কিত সম্পত্তির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার দাবি, বিরোধী পক্ষের প্ররোচনা ও অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে সাত দিনের মধ্যে সংবাদটির headline সংশোধন, একই ওয়েবসাইটে সংশোধনী বা ব্যাখ্যামূলক সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ছবিতে correction/clarification এবং শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে তার ছবি ব্যবহার করে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিকর association প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিকার না পেলে ফৌজদারি মানহানি মামলা, দেওয়ানি ক্ষতিপূরণমূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা নোটিশে বলা হয়েছে।