সাতকানিয়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি
অস্ত্রের মুখে পরিবারকে জিম্মি, মারধর করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাংবাদিক মো. জাহেদুল ইসলামের বাড়িতে গভীর রাতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে সাংবাদিক মো. জাহেদুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি দৈনিক সময়ের আলো ও সময়ের কণ্ঠস্বরের সাতকানিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকাকালে ডাকাতরা বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে নিঃশব্দে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। কেউ যাতে চিৎকার করতে না পারেন, সেজন্য তাদের হাত-চোখ বেঁধে ফেলা হয়। ডাকাতদের কয়েকজন পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আলমারির চাবি ও মূল্যবান জিনিসপত্র কোথায় রাখা আছে, তা জানতে চাপ সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে ডাকাতরা ঘরের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২ লক্ষাধিক টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সাংবাদিক মো. জাহেদুল ইসলামের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, গভীর রাতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৮ থেকে ১০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে ঢুকে আমাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরিবারের সদস্যদের বেঁধে মারধর করা হয়। আলমারির চাবি দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর তারা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। পুরো পরিবার এখনও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
সাংবাদিক মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছি। কখনো ভাবিনি নিজের বাড়িতেই এমন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় না এলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং রাতের টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’