কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ও পিস্তল নিয়ে চট্টগ্রামে, লোহাগাড়ায় চেকপোস্টে গ্রেপ্তার ২

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

বাইরে থেকে দেখলে স্বাভাবিক একটি পিকআপ। মহাসড়কে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে থামানোর পর শুরু হয় তল্লাশি। প্রথম দফায় মেলেনি কিছুই। তবে পুলিশের সন্দেহ কাটেনি। জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকের চালান।

তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭.৬৫ মিমি একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি ও ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খুরুশকুল গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তারেকুল ইসলাম (২৮) এবং একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম রুবেল (৩৬)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে চুনতি এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা দুই যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা।

একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা টাকার বিনিময়ে এসব অস্ত্র ও মাদক বহন করছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন,তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রুজু শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.