লোহাগাড়ায় ইউএনওর বাংলোয় ডেকে সাংবাদিককে নির্যাতন
আহত সাংবাদিক থানায় যাওয়ার পথেও মারধর করেছেন ইউএন'র নিজস্ব বাহিনী-
লোহাগাড়া প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সরকারি বাংলোয় ডেকে নিয়ে সাংবাদিক মিজানকে মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং পরে থানায় মামলা করতে যাওয়ার পথে দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক মিজান জাতীয় সাপ্তাহিক ‘সময়ের প্রয়াস’-এর লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি। তার অভিযোগ, ইউএনওর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং স্থানীয় কয়েকজনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল তাকে ফোন করে ইউএনওর সরকারি বাংলোয় যেতে বলেন। পরে তিনি সরল বিশ্বাসে সেখানে উপস্থিত হলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় ইউএনও বায়েজীদ-বিন-আখন্দ তাকে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক মিজান।
সাংবাদিক মিজানের অভিযোগ, বাংলোয় আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় খোরশেদ, মাঈন উদ্দীনসহ ১০ থেকে ১২ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, ইউএনওর উপস্থিতিতে ওই ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেন। পরে তাকে বাংলো থেকে বের করে দেওয়া হয়।
মারধরের শিকার হওয়ার পর সাংবাদিক মিজান লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে এ ঘটনায় মামলা করতে থানায় যাওয়ার পথে কয়েকজন তাঁর পথরোধ করে আবারও হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে লোহাগাড়া থানায় আশ্রয় নেন তিনি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানান ভুক্তভোগী। তবে হামলাকারীরা থানার বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক মিজান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন মহল।
চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, আমি যেহেতু বিষয়টি মাত্র অবগত হলাম, তাই জেলা প্রশাসককে এখনই জানাচ্ছি, যাতে এ বিষয়ে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি শোনার পর আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগছে।