সাতকানিয়ায় অবৈধ গ্যাস বিক্রেতা ওসমানের লিকেজ গ্যাস সিলিন্ডারেই মৃত্যু ৩জন

নিজস্ব প্রতিবেদন :
দক্ষিণ চট্টগ্রামে সাতকানিয়া উপজেলায় সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে যেখানে-সেখানে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এসব সিলিন্ডার বিক্রি হলেও কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। মুদির দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জের দোকান,পানের দোকান, লাকড়ির দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান, সেলুন, স্যানিটারির দোকানেও এসব সিলিন্ডার গ্যাস অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এমন কি ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ডিলার’রা নিজেদের পরিবহন দিয়ে অনুমোদনহীন এসব দোকানে পৌঁছে দিচ্ছে সিলিন্ডার। অগ্নি নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষা প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের নেই কোনো তদারকি। তবে শুধু মাত্র পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসায়ী’রা বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই। দাহ্য পদার্থ বিক্রি করতে সুরক্ষা ব্যবস্থাসহ লাইসেন্স লাগে- তবে এমন তথ্য জানেন না অনেক বিক্রেতাই। আবার অনেকেই ঝুঁকি জেনেও বাড়তি লাভের আশায় অন্যান্য পণ্যের সাথে বিক্রি করছেন গ্যাস সিলিন্ডার। সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানের সামনে এমন কি ফুটপাথে সিলিন্ডার ফেলে রেখে এ ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ী’রা।
অরক্ষিত অবস্থায় যত্রতত্র সিলিন্ডার ফেলে রেখে বিক্রির ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এসব দোকানে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার কথা থাকলেও তা নেই অধিকাংশ দোকানে। আবার কোন কোন দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও তা অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এমন কি অনেক দোকানে পুরনো সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। একজন ক্রেতা জানান, অসাধু ব্যবসায়ী’রা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চেয়ে বেশি নিয়ে ফেলে অনেক সময়। তখন প্রশাসন ঐ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। অনেক সময় দেখা যায় গ্যাস সিলিন্ডার গ্যাস ওজনে কম থাকে,তবে শুনা যায় ডিলার ব্যবসায়ী’রা অসৎ উপায়ে,গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নিয়ে ফেলে। এই ভাবে সাধারণ গ্রাহকদের কে টকানো হয়। তিনি আরো বলেন ঐ অসৎ ব্যবসায়ীদের কে আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে সম্প্রতী সাতকানিয়ার পৌরসভার চরপাড়ায় লিকেজ গ্যাস সিলিন্ডারেই ঝরে গেলো ৩জনের প্রান!তবুও সেই গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ সরবরাহ দাতা আছেন বহাল তবিয়তে। সাতকানিয়ার ইতিহাসে ন্যাক্কর জনক ঘটনার সেই লিকেজ সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহকারী মুদির দোকানদার মো:ওসমান গনমাধ্যমে বলেন,আমার গ্যাস বিক্রির কোন বৈধ কাগজপত্র নেই আছে শুধু ট্রেড লাইসেন্স। আর সিলিন্ডার গ্যাসের কারণে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আমার কোন দোষ নেই যদিও আমি গ্যাস বিক্রি করি এখানে সবাই করে তাই। আর আমি নিহতদের নষ্ট বোতল দিইনি এটা অনেকেই তদন্ত করলো। এই বিষয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে সিনিয়া অফিসার এস.এম হুমায়ুন কার্ণায়েন বলেন, গতমাসে উপজেলা আইনশৃঙ্খলার মাসিক মিটিং সময় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বিষয়টা আমি তুলে ধরে ছিলাম। তবে আমরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীদের কে পর্যন্ত সচেতন করার চেষ্টা করতেছি।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহারা জানান, এত দিন লকডাউনে কারনে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি নাই। তবে এখন লকডাউন খুলছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.