কল্লোল হোটেলের ভাড়াটিয়া এমডির অপ-কৌশল, মালিক পক্ষের আইনি পদক্ষেপ

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর পর্যটন জুনের প্রাণকেন্দ্র লাবনী সী বিচ পয়েন্টে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হোটেল কল্লোলের ভাড়াটিয়া মালিক ইমরানের দাম্ভিকতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে প্রকৃত মালিকপক্ষ। জানাযায়,হোটেলটির স্বত্বাধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইদ্রিস আহম্মেদ। এই মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াত পরবর্তীতে অংশীদার হন স্ত্রী শামসুননাহার মেয়ে হোসনে আরা আরজু, হাসিনা আকতার, মোহছেনা আকতার বকুল ও ছেলে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। অংশীদার গং গত ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বহুতল বিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ অত্যাধুনিক এই হোটেলটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যতীত শর্তসাপেক্ষে ঢাকাস্থ উত্তরা এলাকার বাসিন্দা ইমরান হাসানকে অস্থায়ী চুক্তিপত্রের মাধ্যমে মাসিক হিসেবে ভাড়া দিয়ে দেয়। চুক্তি সম্পাদনা পরবর্তী ভাড়াটিয়া মালিকের কাছে হোটেল হস্তান্তরের কিছুদিন পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অংশের অবকাঠামো সংস্কারের নামে নকশা পরিবর্তনের পায়তারা করে আসছে। যদিও চুক্তিপত্র সম্পাদন মতে উক্ত হোটেলে ভাড়াটিয়া মালিকের সুবিধার্থে কোন প্রকার পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে হলে মুল মালিক পক্ষের সাথে বসে আলাপ স্বরুপ করার উল্লেখ্য রয়েছে। কিন্তু ভাড়াটিয়া মালিক ইমরান চুক্তিপত্রের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছায় যখন যা খুশি ভাংচুর করে পূণরায় ভিন্নরূপে উপস্থাপনার আবির্ভাব ঘটাচ্ছে বলে জানান প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে হোসনে আরা আরজু। তিনি জানান, আমরা নির্দিষ্ট অংশ ব্যতীত শর্ত অনুযায়ী হোটেলটি ভাড়া দিয়েছি। যেখানে আমার বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত অফিস কক্ষ রয়েছে। উক্ত কক্ষটিও তিনি ভেঙ্গে খাবার হোটেল বানানোর অপচেষ্টায় মেতে উঠেছে। যদিও এখানে শুরু থেকেই মানসম্পন্ন খাবার হোটেল রয়েছে। এছাড়াও গত ৯ এপ্রিল রাতের আধাঁরে ভাড়াটিয়া ইমরান হাসান কু-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তার কর্মচারীদের দিয়ে আমাদের অজান্তে হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের নকশা অনুযায়ী নির্মিত আধুনিক ফিটিংস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১২ টি কক্ষ ভেঙ্গে ফেলে। যা চুক্তির ১০ নং শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। উক্ত ভাংচুরের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে । আমরা জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাড়াটিয়া ইমরান হাসানের সাথে যোগাযোগ করে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ভবনের কক্ষ ভাঙ্গার কারণ জানতে চাইলে উল্টো দুর্ব্যবহার করে। এবং প্রাণনাশ সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রধান করেন। তাকে এধরনের কাজ থেকে বিরত রাখার বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। তার এসব দাম্ভিকতার জন্য আমরা অংশীদারি মালিক গং অবশেষে গত ১২ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারই প্রেক্ষিতে একইদিন কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। অপরদিকে হোটেল মালিকপক্ষের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধনসহ ভাড়াটিয়া মালিকের নানা দাম্ভিকতা প্রদর্শনের ফলে স্বনামধন্য এই পরিবারের সদস্যদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা। তথ্য মতে,হোটেলটি ভাড়া দেয়ার পর থেকেই ভাড়াটিয়া মালিক ইমরান হাসান নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আসছেন। এমনকি মুল মালিকের অজান্তে হোটেলের মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ায় গত ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়াও হোটেলের জামানত ও ভাড়া পরিশোধে প্রতারণামূলক ভুয়া চেক প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। যাহার মামলা নং সিআর-১১৫৩/২০১৯। ভাড়াটিয়া মালিক কতৃক অব্যাহত থাকা এসব অবৈধ প্রভাবের শিকার উক্ত হোটেলের অংশীদার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়োবৃদ্ধ স্ত্রী শামসুননাহার এবং মুক্তিযোদ্ধা কন্যা হাসিনা আক্তার রিটা ও মোহসিনা আক্তার বকুল বলেন, তিল তিল করে গড়ে তোলা হোটেলটি এভাবে ভাড়া দেয়ার মাশুল দিতে হবে কখনো চিন্তা করিনি। এককথায় হোটেলটির ভাড়াটিয়া মালিক ইমরান হাসানের নয়ছয় কান্ডে অতিষ্ঠ আমরা।তাই আমরা এই ভাড়াটিয়া এমডির উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। এসকল অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ভাড়াটিয়া মালিক ইমরান হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে এসব নির্মাণ কাজ করতেছি। এসব নিয়ে লেখালেখি করলে কি হবে। তাই যা ইচ্ছে লিখেন কিছুই হবে না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.