তাদের দুজনের অনিয়মে, হারিয়ে যাচ্ছে চৌফলদন্ডীর চিরচেনা প্যারাবন

৫ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে গড়ে ওঠছে চিংড়ি ঘের-

 

সৈয়দ আককাস উদদীন 

 

কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। ইতোমধ্যে প্যারাবনের অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে প্রায় ২০ একর জমি দখল করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্র গত তিন দিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ করলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বন ধ্বংসের এ কাজটি করা হচ্ছে।

 

 

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন–ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা কমিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করে।

 

সরেজমিন দেখা যায়, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে বাইন ও কেওড়া গাছ সমৃদ্ধ প্যারাবন। বনের প্রায় ২০ একর জায়গা দখল করে চতুর্পাশে সীমানা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় থাকা প্যারাবনের অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কাটা হয়েছে।

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য গত রোববার থেকে গাছ কাটা এবং সরকারি এ জমি দখলের কাজ চলছে। গাছ কাটার খবর পেয়ে রোববার উপকূলীয় বন বিভাগের পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃনাল ভাওয়াল পরিদর্শন করেন। পরে ভূমিদস্যু চক্রটি বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে। ফলে চার দিনেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃনাল ভাওয়াল বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু গাছ কাটার দৃশ্য দেখেছি। ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে। আমরা কোন অনিয়ম বা দূর্নীতি করিনি।

 

গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘বন কর্নকর্তাদের ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বন বিভাগের পক্ষ থেকে চৌফলদন্ডী এলাকার গাছ কাটার স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। আলম চেয়ারম্যানসহ  তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে

 

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসান বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আগে শুনিনি, এখন শোনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এসিএফকে বলে দিচ্ছি।

 

এদিকে স্থানীয়রা জানান,গোরকঘাটা রেঞ্জ এ কোন এক অদৃশ্য কারণে প্রায় ৪বছরের কাছাকাছি সময় ধরে একই রেঞ্জে দায়িত্ব  থাকার ফলে আয়ুব আলী মূলত বিভিন্ন খাতে দূর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছেন।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.