মিরসরাই(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ঠাকুরদীঘি–বিশ্বরোড সংলগ্ন রায়পুর ও দুর্গাপুর এলাকায় একটি ‘অটিজম সেন্টার’কে কেন্দ্র করে ভূমি দখল ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন আজিজুল হক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা।
আজিজুল হক সাংবাদিকদের জানায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রায়পুর মৌজার নাম জারি খতিয়ান নং ১১৯৩ আর এস দাগ ৫১২ (অংশ) ও বিএস দাগ নং ৭৪০ অংশু অবস্থিত আবাসিক বসত বাড়িতে যাতায়াতের জন্য জে এল নং ৩৯ এল এ কেইস নং ০৯/৭ ( ১৯৬৬-১৯৬৭) মুলে অধিগ্রহণ প্রীতি রায়পুর মৌজার আর এস নং – ২০৮, যার পরবর্তী বিএস দাগ নং -২৩৩ (অংশ)এর আন্দর সওজ এর হুকুম দখলকৃত জমিতে ৮.১৩ শতক জমিতে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রবেশ পথ (এ্যাপ্রোচ / সার্ভিস রোড়) রোড নির্মাণ করিবে এ ধরনের একটি চুক্তিপত্র আমার সাথে সড়ক ও জনপদ এর চুক্তি হয় গত ৪/৬/০২২ ইংরেজি ।এক্ষেত্রে সড়ক ও জনপদের পক্ষে পিন্টু চাকমা নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষর করেন, অপরদিকে রোহিত হিসাবে আমি মোঃ আজিজুল হক স্বাক্ষর করি।এই বিষয়ে সড়ক ও জনপদ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সীতাকুণ্ড সড়ক উপবিভাগ চট্টগ্রাম থেকে একটি সাস্মার প্রদান করেন প্রতিপক্ষ আলমগীর বরাবর, যার সাস্মার নাম্বার ৩৫.০১.১৫৮৬.৮৪৭.০৪.০২৬.২৫ সাস্মাক এর বিষয়বস্তুু ছিল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণকৃত ভূমির উপর আপনার কর্তৃক অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর স্থায়ী /অস্থায়ী স্থাপনা ইত্যাদি সরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে,, নোটিশে আরো উল্লেখ ছিল সাত দিনের মধ্যেই সরকারি ভূমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ঘর, স্থায়ী অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয় অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে নোটিসে উল্লেখ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, আলমগীর হোসেন (পিতা: মৃত মোশারফ হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে একটি অটিজম সেন্টার পরিচালনার কথা বললেও বাস্তবে সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের কোনো নিয়মিত কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে সমাজকল্যাণমূলক হিসেবে দেখানো হলেও এর কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
তারা মনে করছেন, অটিজম সেন্টারের নাম ব্যবহার করে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হলেও তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করেন , বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানসংলগ্নে পূর্ব পাশে মাদক জুয়া ও অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
এসব কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেনে এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কে জানায় ঐ জায়গায়টিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটা অটিজম সেন্টার করেছি সেখানে প্রতিবন্ধীদের মাসে একবার টিকা দেওয়া ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান পরিচালনা হয়, তবে প্রতিপক্ষ আজিজুল হক আমাদের প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকা গভীর নলকূপ ভেঙ্গে ফেলে এবং গাছপালা কেটে ফেলে।
এবং সরকারি ১২ ফিট জায়গা ছাড়া কথা থাকলেও সে পুরো ৫২ ফিট জায়গা দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ফেলে।
যে খানে সরকারি জায়গা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার, সে তো প্রতিবন্ধীদের অধিকার হরণ করেছে এ বিষয়ে আমি উচ্চ আদালতে যাব, আর আমার বিরুদ্ধে যেসব অহেতুক অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট এবং এটার কোনোটার সাথে বাস্তবতার মিল নাই ।
এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় তার ভিন্ন চিত্র, যেখানে ছবি নলকূপটি ভাঙচুর করার কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে গভীর নলকূপটি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে এবং গাছপালা কাটার কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের দাবি, ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি পুনরায় তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং এ সময় অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।