মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ২৮ হাজার ইয়াবা বড়িসহ সাবেক এক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ২৮ হাজার ইয়াবাসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সাবেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি ল্যান্ড ক্রুজার জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ওবায়দুল হাসান (৪১) বগুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল। ২০১৯ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি ল্যান্ড ক্রুজারে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়।
তিনি বলেন, রাত ৯টার দিকে সন্দেহভাজন গাড়িটি চেকপোস্টে পৌঁছালে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। তবে চালক নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওবায়দুল হাসান পুলিশকে জানান, তিনি বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ল্যান্ড ক্রুজারটি নিয়ে কক্সবাজারে আসেন এবং রাতে ঢাকায় ফিরছিলেন। তবে গাড়িতে ইয়াবা কীভাবে এলো, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, সেনাবাহিনীর স্টিকারযুক্ত একটি গাড়িতে ইয়াবা পাচারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে, ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা পাচারের সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই অভিযানে গাড়িটি থেকে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।