সাতকানিয়ায় বনকর্মীদের তৎপরতায় বানর উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের মাদার্শা রেঞ্জ -
চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা রেঞ্জে একটি বানর উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সাতকানিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সামিয়ার পাড়া এলাকার ০৮ নম্বর গলি থেকে বানরটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ আবাসস্থলে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।
স্থানীয়সূত্রে ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, লোকালয়ে বানরের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বনকর্মীরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁদের তৎপরতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল প্রচেষ্টায় বানরটিকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে নিরাপদ আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ শুধু বন বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার একটি নৈতিক দায়িত্বও। লোকালয়ে চলে আসা বানরটিকে নিরাপদে উদ্ধার ও অবমুক্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বনকর্মীরা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁদের এ ধরনের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, “বন্যপ্রাণী কখনো লোকালয়ে চলে এলে সেটিকে আঘাত করা, বিরক্ত করা কিংবা অযথা আটকে রাখা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে অবহিত করতে হবে। বন বিভাগ বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এ কাজে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”
এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন,বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বনকর্মীদের সময়োপযোগী উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বানর উদ্ধারের বিষয়ে দেশের প্রথম নারী ফরেস্টার মিতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন,স্থানীয়রা লোকালয়ে বানরটি দেখতে পেলে আমরা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত করি।এসময় আমার সাথে মাদার্শা রেঞ্জের চূড়ামনি বিট কর্মকর্তা মো: মহসিন ও মাদার্শা রেঞ্জের অপরাপর স্টাফরাও অংশ নেয়।
চূড়ামনি বিট কর্মকর্তা মো: মহসিন বলেন,কোন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসা মাত্র আমাদের খবর দিলে সেটা আমরা যথাযথ ভাবে উদ্ধার করে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারি, এতে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই।