নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিজ বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত জান্নাতুল ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকার বাবুল ও মাহমুদা আকতার বিউটি দম্পতির প্রথম সংসারের সন্তান। তিনি মায়ের সঙ্গে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার ‘বাবরের বিল্ডিং’-এ ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতের মা মাহমুদা আকতার বিউটির সঙ্গে প্রথম স্বামী বাবুলের বিবাহ বিচ্ছেদের পর ছেলে বাবার কাছে এবং মেয়ে জান্নাতুল মায়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে বিউটি খাগড়াছড়ির বাসিন্দা বিশাল মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের সংসারেও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় বিশাল মাহমুদ বাসায় উপস্থিত ছিলেন না।
নিহতের মা মাহমুদা আকতার বিউটি জানান, সন্ধ্যায় তাঁরা মা-মেয়ে একসঙ্গে নাস্তা করেন। এরপর রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি পাশের কক্ষে বসে টেলিভিশনে সিরিয়াল দেখছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁর খারাপ লাগলে তিনি জান্নাতুলের কক্ষের দিকে যান। সেখানে গিয়ে ভেতর থেকে কক্ষটির দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করলে লোহাগাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নুর উদ্দিন, এসআই নুর আমজাদ ও এসআই আবদুল আজিজ লিটন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সদস্যরা রশিদার পাড়ার ভাড়া বাসাটির ভেতর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের মায়ের ভাষ্যমতে, জান্নাতুল টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন এবং সম্প্রতি একজনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লোহাগাড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।