সিআরবিতে হাসপাতাল বিরোধী নেতাদের দল ছাড়তে বললেন মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী

সিআরবির পরিত্যক্ত ভূমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের (পিপিপি) আওতায় হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দলের পদ ছাড়তে বললেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় সিআরবিতেই হাসপাতাল হবে তাই সেটা নিয়ে আন্দোলনের নামে বাড়াবাড়ি না করতেও হুঁশিয়ার দেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর জহুর আহমদ চৌধুরীর এ সন্তান।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম  মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলীয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় আন্দোনকারীদের নেতা নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, ইব্রাহীম হোসেন বাবুল ও ইফতেখার সাইমুন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। যদিও এ বক্তব্যের পর তাদের কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না। শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নেয়া এ প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নেন নগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

নগর আওয়ামী লীগের সভায় মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন দেওয়া প্রকল্প। এই প্রকল্পের বিরোধিতা করা মানে নেত্রীর বিরোধীতা করা। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম সিআরবি প্রকল্প নিয়ে আন্দোলন চলছে। সিআরবি রক্ষা আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানোর চেষ্টাও চলছে। সরকারের উন্নয়নকে ব্যাহত করার অপচেষ্টাও চলছে।’

নিজ দলের নেতাদের ইঙ্গিত করে বর্ষীয়ান এ নেতা বলেন, ‘আন্দোলনের নামে যারা আজ মাঠে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রকল্পের বিরোধিতা করছে তাদের আওয়ামী লীগ করার অধিকার নেই। তাদের উচিত এখনই আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলন করা। তাদের মনে রাখা উচিত, ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন তারা।প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্প সিআরবিতেই হবে। এর বাইরে আর কোন কথা নেই।’

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সংগঠনের সভাপতির এ বক্তব্যের সত্যতা  নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাহতাব ভাই ওপেন সভায় এসব কথা বলেছেন। তখন আন্দোলনকারীদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সোজা কথা নীতিগতভাবে দলে থেকে দলীয় প্রধান তথা প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই।’

এরআগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় চট্টগ্রামের রেলওয়ের ভূমিতে পিপিপির মাধ্যমে সিআরবি এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যেখানে বর্তমানে কিছু ঝুপড়ি ঘর ও দোকানপাট রয়েছে। অথচ এক শ্রেণির লোক কিছু না বুঝেই হীন স্বার্থে হাসপাতাল নির্মাণে বিরোধিতা করে যাচ্ছে।’

এই এলাকায় যখন সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন করা হয়েছে তখন বিরোধিতা করা হয়নি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে তখন বিরোধিতা করা হয়নি কেন? —সেই প্রশ্নও রাখেন প্রবীণ নেতা মোছলেম।

তিনি বলেছেন, ‘কিছু সার্থানেস্বী মহল এভারকেয়ার, ইম্পেরিয়াল, পার্কভিউসহ বিভিন্ন হাসাপাতাল মালিকদের ইন্দনে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যা কাম্য নয়। এখন হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করা মানে শেখ হাসিনার বিরোধীতা করা।’

এদিকে গত রোববার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নওফেলও বলেছেন সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারেন না। ওই সময়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা সরকারের একটা নির্বাহী সিদ্ধান্ত, আমি যেহেতু সরকারের একটা নির্বাহী দায়িত্বে আছি। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করাটা সমীচীন হবে না। আমার যেহেতু সমীচীন হবে না….আন্ডার ওথ অফ এজ এ মিনিস্টার, আমাদের তো কনফিডেনশিয়ালি ওথ আছে…এবং কালেক্টিভ মিনিস্টেরিয়াল রেসপনসিবিলিটি বা সংসদীয় গণতন্ত্রের ভাষায় যেটা বলে, রেসিডেনশিয়াল অফ গর্ভামেন্ট। ইটস দ্যা রেসপনসিবিলিটি অফ দ্যা এনাটায়ার কেবিনেট। সেকারণে আমি এ বিষয়ে মন্তব্য এ মুহূর্তে করতে পারছি না।’

সিআরবির পরিত্যক্ত ভূমিতে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের (পিপিপি) আওতায় হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন যতই হোক রেলওয়ে তথা সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সরকার দলীয় তিন শীর্ষ নেতাও সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।

এরআগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বরাত দিয়ে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন সিভয়েসকে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় পিপিতে সিআরবির পরিত্যক্ত ভূমিতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

একই কথা জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও রেলওয়ের ডিজি ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদারও সিভয়েসকে জানিয়েছিলেন, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ হবেই।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.