নিজস্ব প্রতিবেদক:
টেকনাফে একাধিক মাদক কারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ী কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর ও বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা ব্যবসা। এবং হুন্ডি কারবারিরা ব্যাপক তৎপর টেকনাফ সীমান্ত এলাকায়। ইয়াবা গডফাদারদের ঘনিষ্ঠরাই মূলত এ অবৈধ লেনদেনে জড়িত।দশ জনের সিন্ডিকেটের কয়েকজন সহযোগী বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হলেও থেমে নেই তাদের হুন্ডি কারবার। নানা কৌশলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার, সৌদি আরব থেকে তারা নিয়মিত অর্থ আদান-প্রদান করছেন। স্থানীয় লোকজন বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা শুধু ইয়াবা কারবারিদের আটক করলেও নিরাপদেই রয়ে গেছে সীমান্তের হুন্ডি সিন্ডিকেট। সে কারণে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বেশ কয়েকজন ইয়াবা কারবারি নিহত হলেও পাচার বন্ধ হচ্ছে না। কারণ ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে হুন্ডি সিন্ডিকেটের সদস্যদের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। ইয়াবা কারবার চলে হুন্ডির মাধ্যমেই। টেকনাফ সীমান্তে সক্রিয় ‘হুন্ডি সিন্ডিকেট’ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, দুবাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের হুন্ডি কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার করা ইয়াবার চালানের লেনদেন হয়ে থাকে হুন্ডির মাধ্যমেই। তাই শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা কারবারিদের অনেকেই এই হুন্ডি সিন্ডিকেটও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক হুন্ডি সিন্ডিকেটের অফিস রয়েছে সৌদি আরবে।সেখানে হুন্ডির লেনদেন হয়ে থাকে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টেকনাফের হুন্ডি কারবারিরা বিভিন্ন গ্রামে দোকানে প্রকাশ্যেই মুদ্রার পাশাপাশি সোনাও পাচার করছে। বিভিন্ন দেশে বিকাশেও হুন্ডির অর্থ লেনদেন হচ্ছে অহরহ। টেকনাফ সবচেয়ে আলোচিত শাহপরীরদ্বীপ একটি মৌলভী গ্রুপ তারা সবসময় দেশ বিদেশে আসা-যাওয়া করে এ চক্রটির সদস্যরা। তাদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি ‘টেকনাফের লামার বাজারের’ অমল হিসেবে পরিচিত অমল স্টোরের আশপাশে। সেখানে প্রায় প্রতিটি দোকানেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠালে দেয় মিয়ানমারের মুদ্রা। সৌদি আরবে বসে সে দেশের রিয়াল দিলে বাংলাদেশে তাদের এজেন্টরা টাকা দিয়ে দেয়। কেউ কেউ ইয়াবাপাচারের কৌশল বদলে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিরা টেকনাফ বাজারে বা স্টেশনে আসা-যাওয়া করছে না কিন্তু তাদের সিন্ডিকেটের সদস্য মোটরবাইকের পেছনে করে ইয়াবা এবং হুন্ডির টাকা পাচার করছে ও ইয়াবার চালান। হুন্ড কারবারিদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের ব্যাপক যোগাযোগ আছে। ওই চোরাকারবারি নিয়মিত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের সাথে মোবাইলের গ্রুপে সক্রিয়। তাদের অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং মাদ্রাসায় চাকরি করেন। কেউ কেউ চাকরি করেন দোকানের সেলসম্যান হিসেবেও। এভাবে চাকরির পাশাপাশি হুন্ডি কারবারি করে অনেকে মোটা অঙ্কের অর্থ কামাচ্ছেন। আবার সেই অর্থ দিয়ে ভিন্ন রকমের দোকান করছেন। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি ছোট দোকানে ১২ বছর ধরে মোবাইল ফোন রিচার্জ ও সিম বিক্রি করেন এক পুরাতন রোহিঙ্গা। তার নাম বার্মাইয়া মনির। সেই নিজেকে বাংলাদেশী পরিচয় দেয়। মনিরকে প্রতিবেদক কৌশল অবলম্বন করে ফোন ্করলে বলে, কাদের ভাই আপনার নামে কোন সৌদি আরব থেকে টাকা আসেনি আজকে। তবে একজনের নামে ৮০ হাজার টাকা এসেছে বলে ফোন কেটে দেন। এর থেকে বুঝায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসায়ী জড়িত। দ্বিতীয় জন মৌলভী বশির আহমদ তাকে ফোন করে জানতে চাইলে বশির হুজুর আমি আমি কোনার পাড়ার করিম আমার ভাই সৌদি আরব থেকে এক লাখ টাকা পাঠাইছে। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের দোকান আছে টেকনাফ ওখানে যান নম্বর টা দেখিয়ে টাকা নিয়ে যান। শেষে সাংবাদিক পরিচয় পেলে তিনি বলেন, আল্লাহ দোহাই লাগে ভাই এ কাজ করবেন না বলে ভাই আমি পেটের দায়ে একাজ করি। তখন আমি ফোন কেটে দিয়ে ফেলি।আরেকজন টেকনাফ বাড়ি সে শাহপরীরদ্বীপে থাকে তার নাম আজিজ উল্লাহ মৌলভী। তাকে সরাসরি ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন হুন্ডি ব্যবসা করি না এবং আমার এক ভাতিজাকে দিয়ে দিলাম এ হুন্ডি ব্যবসা।তার মাধ্যমে আমি মাঝে মধ্যে লেনদেন করি বলে স্বীকার করেন।তিনি বর্তমান এশিয়া ব্যাংকে কাজ করে বলে জানান।তার নাম সালমান ফারসী। এ বিষয়ে সালমান থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ কাজে জড়িত নেই বলে ফোন কেটে দেন। টেকনাফে এরাই দশ জনের সিন্ডিকেটর সদস্য এরা হলেন,রয়েছে বড় মাপের হুন্ডি ব্যবসায়ী। তারা হচ্ছেন দিল মুহাম্মদ, ওসমান, এনামুল হাসান,অমল দাস (বাবুল ষ্টোর) শাহপরীরদ্বীপের মনির উল্লাহ, হেলাল উদ্দিন, সাবরাংয়ের মুছা আলী, নেজাম উদ্দীন,মুহাম্মদ নুর, মৌলভী আইয়ুব,গফুর, শুক্কুর, শাহপরীরদ্বীপের মৌলভী বশির আহমদ, কমল হাসান, হাসান মাহবুব,আলী হোসাইন, নজির আহমদ অনেক মাদক ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে এদের সাথে। সৌদি আরবে কর্মরত টেকনাফের কয়েকজনের ভাষ্যমতে, সৌদি আরব থেকে যে পরিমাণ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ব্যাংকে যাচ্ছে তাই সেখানকার বাংলাদেশিদের বেশিরভাগ টাকা লেনদেন হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। সেখানকার পুলিশ এবং প্রশাসন হুন্ডি কারবারিদের সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হলেও তাদের কখনো সমস্যা করে না। বরং নানাভাবে সহায়তা করে থাকে। এমনকি সেখানকার অনেক ব্যাংকেও তাদের বড় ধরনের লেনদেন হয়। এজন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ সুযোগও দিয়ে আসছে। সৌদি আরবে কেলুওয়ার বাতাসে এলাকায় ইয়াবা কারবারিদের টাকা লেনদেনের জন্য হুন্ডি কারবারিদের ‘হাট বসে’ বললেই চলে। যে কেউ এসে এর কোনো নাম বললেই হুন্ডি কারবারিরা এগিয়ে আসে। বুঝে ফেলে কে কোন জেলার লোক। এক হুন্ড ব্যবসায়ী বলেন, টেকনাফে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট রয়েছে। ভিওআইপির মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। আমিও একজন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট। কেউ আমার ভাইকে রিয়াল দিলে বাংলাদেশে টাকা পাঠিয়ে দিই আমি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন , আমাদের র্যাবের একটি মনিটরিং টীম আপনার নিউজের ভিত্তিতে কাজ করছে এবং এদেরকে তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।