জাহেদুল ইসলাম
কক্সবাজার জেলা শহরের হেরোইনের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীণ মাদক কারবারি হামিদ হোসেন ওরফে বার্মাইয়া হাতকাটা হামিদ অবশেষে ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। গত ৫মার্চ বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার দামপাড়াস্থ গরীবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা সংলগ্ন শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে তাকে আটক করা হয়। একই সাথে হামিদের আরও তিন সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে দুই হাজার পাঁচশত পিস ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে আটক চারজন হলেন, কক্সবাজার পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ ঘোনার পাড়া এলাকার বাসিন্দা হামিদ হোসেন (৫২) ওরফে বার্মাইয়া হাতকাটা হামিদ যাহার পিঃ পাকিস্থানে মৃত নুরুল হাকিম,উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বর্তমানে চকরিয়া ৩ নং ওয়ার্ড ফুলতলা এলাকার ডাঃ সরওয়ার,র বাড়ির ভাড়াটিয়া আবুল কালামের ছেলে হোসেন জোহার(২২),উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত জলিল আহাম্মদের ছেলে আবুল হাসিম(২০) এবং চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ৩নং ওয়ার্ড চরগঙ্গা এলাকার হাজী আক্কেল আলী বাড়ির বাসিন্দা মৃত খায়ের আহাম্মদের ছেলে মোঃ খোরশেদ আলম (৩৫)।এবিষয়ে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলা করা হয়েছে। যাহার খুলশী থানার মামলা নং ১০/৯৫ তারিখ ৫/৩/২০২২। ডিবি পুলিশের এজাহারে উল্লেখিত মতে, উক্ত মামলায় এক নং আসামি হোসেন জোহার দুই নং আবুল হাসিম তিন নং হামিদ হোসেন এবং চার নং আসামি করা হয়েছে খোরশেদ আলমকে। এজাহার সুত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত স্থানে মাদক বিকিকিনির জন্য কারবারিদের অবস্থান করা হবে। এমন তথ্যে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ডবল মুরিং জোনে ডিউটিরত ডিবি পুলিশের এস আই (নিঃ) মোঃ ইকবাল হোসেন সংঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে এসকল কারবারিদের ইয়াবাসহ আটক করে। আটক এক ও দুই নং আসামির হেফাজত থেকে এসকল ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তারা তিন নং আসামি হামিদ হোসেনের নির্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নিকট হতে সংগ্রহ করে চার নং আসামি খোরশেদ আলমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরে বিক্রয় করা হবে বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানান। অপরদিকে কক্সবাজার জেলা শহরের ক্ষমতাধর প্রবীণ এই মাদক সম্রাটকে ইয়াবাসহ আটকে সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ হচ্ছে। তাদের অনেকে ডিবি পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব ব্যক্ত করেন। অনেকে আবার ভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করেন। তাদের মতে, ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়া হামিদের এই ইয়াবাগুলো ছিলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নমুনামাত্র। তিনি এই জেলা শহরের সুপরিচিত মাফিয়া চক্রের ন্যায় মাদকের সর্ববৃহৎ অংশের একজন। এককথায় এই জেলায় যতো মাদক কারবারি রয়েছে তাদের যদি মাদকের যোগ্যতা হিসেবে সরকার পক্ষ থেকে তালিকা করা হয় তাহলে টপ-টেন নাম্বারে স্থান পাওয়ার মতো এই মাদক সম্রাট হামিদ। তাই নিশ্চয়ই ডিবি পুলিশের হাতে আটক পূর্বে তিনি ইয়াবার বড়ো চালান কোথাও মজুদ রেখে নমুনা মাত্র সংখ্যক ইয়াবা নিয়ে উক্ত স্থানে জমায়েত হয়েছিলেন। তাই তাকে অধিকতর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিশাল সংখ্যক ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে জানান হাজারো উৎসুক জনতা।