টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার পানিতে প্লাবিত সিলেটে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ বন্যায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।
শুক্রবার (১৭ জুন) সকালে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ।
তিনি বলেন, দুইটা উপজেলার অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষজন ঘর থেকে বের হতে না পেরে ফোন করছেন। আমরা নৌকা দিতে না পেরে সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়েছি। তারা রেসকিউ বোর্ড নিয়ে যাচ্ছেন।
দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সিলেটে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক উপচে তীব্র বেগে পানি ঢুকছে। উজানি ঢলে একের পর এক তলিয়ে যাচ্ছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা। গ্রাম ছেড়ে লোকজন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। গবাদিপশুর জায়গা হয়েছে মহাসড়কে। বানভাসি মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। অনেক অসহায় পরিবার আছে যারা খাবার পাচ্ছে না। আমরা যা পারছি এলাকা থেকে সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। অনেকে এলাকার বহুতল স্কুল ভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বানানোর দাবিও জানিয়েছেন।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদী সিলেট (নগরী) পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ৪৪ সেন্টিমিটার ও কানাইঘাট পয়েন্টে দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ৪৫ মিলিমিটার ও কানাইঘাটে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও ঢলে পরিস্থিতি আরও নাজুক করেছে।
কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে সারিঘাটে সারি নদী বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।