মৃত হাতির দেহাংশ কেটে নিল দুবৃর্ত্তরা, পরে কবর থেকেও চুরির চেষ্টা তবুও মামলা করেনি বন বিভাগ

চট্টগ্রাম উত্তর পার্বত্য বনবিভাগের আওতাধীন -

 

সৈয়দ আককাস উদদীন, চট্টগ্রাম থেকে 

চট্টগ্রাম উত্তর পার্বত্য বনবিভাগের আওতাধীন  রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় মারা যাওয়া ৬৫ বছর বয়সী একটি এশিয়ান বুনো হাতির পায়ের মাংস ও শুড় কেটে নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়দের নজরে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

এ ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতায় ছিল বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা। যদিও বন বিভাগ বলছে, রাতে ঝড় বৃষ্টি এবং জঙ্গলে ভেতরের এলাকা হওয়ায় তাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভাসান্যাদম এলাকায় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) জয়নাল নামে এক সদস্য বলেন, গেল (রোববার) রাতে ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। এসময় কে বা কারা রাতে এসে হাতিটির মাংস কেটে নিয়ে গেছে। রাতে আনুমানিক ২টা বা ৩ টার দিকে হতে পারে এ ঘটনা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, মৃত পুরুষ হাতির মরদেহের কাছ থেকে তার সঙ্গীটি সরে যাওয়ার কারণে রাতে অন্ধকারে কে বা কারা এই ঘটনাটি করেছে।

হাতিটির পাহারায় বন বিভাগের লোকজন ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জঙ্গলের ভেতরে হওয়ায় সেখানে রাতে কেউ ছিল না। আমাদের লোকজন ভেটেনারি সার্জনসহ যাচ্ছেন, পোস্টমর্টেম করার পরে আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ আজিজ বলেন, এটা অকল্পনীয় একটা ঘটনা। এটা হতে পারে না। বন বিভাগের হাতির মরদেহটি নিয়মিত পাহারা দেওয়া উচিত ছিল। এটা স্থানীয় বন কর্মীদের অবহেলা ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়া কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এর ফলে মানুষের কাছে একটা মেসেজ যাবে যে, হাতির অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো খুব দামি এবং এগুলো নেওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত মৃত হাতির পাশে তাদের সঙ্গী হাতিগুলো থাকে, তারা শোক প্রকাশ করে। গতকালকে (রোববার) সেই মৃত হাতির পাশেও একটি সঙ্গী হাতি ছিল। কিন্তু আমি কয়েকটি ভিডিওতে দেখলাম সেই সঙ্গী হাতটিকে যেভাবে স্থানীয় লোকজন তাড়া করছিল, এটা খুব অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে বন বিভাগের দেখভাল করার কথা ছিল। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাঙামাটির লংগদু উপজেলা ৬৫ বছরের একটি বয়স্ক পুরুষ হাতি মারা যায়। বন বিভাগ জানায়, হাতিটি অসুস্থ ছিল। এছাড়া হাতিটির শরীরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্ষত চিহ্ন এবং দুর্বল ছিল। মৃত হাতিটির পাশে তার সঙ্গীটি দাঁড়িয়ে থাকায় রোববার মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল বন বিভাগ।

এদিকে মৃত হাতির দেহাংশ কেটে নিল দুবৃর্ত্তরা এতেও হয়নি শেষ পরে কবর থেকেও চুরির চেষ্টা চালায়।রহস্যজনক কারণে তবুও উদাসীন বন বিভাগ।

 

এদিকে চট্টগ্রাম উত্তর পার্বত্য বনবিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম বলেন -ঝড় বৃষ্টি এবং কাল বৈশাখের রাতে তো আর হাতি পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব না।তাই হয়তো অবাঙালীরা মাংস কেটে নিয়েছেন, তবুও আমরা থানায় আসছি মামলা করার জন্য নয়, জিডি করার জন্য আসছি।আর ঘটনাস্থল আমার পাশে নয় নিয়াজী সাহেবের এলাকায়।

 

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.