আদালত পাড়ায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে গণধোলাইের চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা

চট্টগ্রাম নগরীতে পাঁচবছর বয়সি শিশু আয়াতকে নৃশংসভাবে হত্যা

চট্টগ্রাম নগরীতে পাঁচবছর বয়সি শিশু আয়াতকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত আবিরকে আদালত পাড়ায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে গণধোলাইের চেষ্টা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ ২৮(নভেম্বর) দুপুরে আবিরের ফের রিমান্ডের আবেদনের জন্য আদালতে তোলার সময় পথে এ ঘটনা ঘটে।
তবে পিবিআই তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানালেও পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), আদালতের একাধিক আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একাধিক সূত্র জানায়, সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাড়িতে করে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আবিরকে আবারও রিমান্ডের আবেদনের জন্য আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা অন্তত ১৫ মিনিট পিবিআই’র গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে থাকা সাধারণ জনতাকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘খুনি আবির বাচ্চাটাকে যেভাবে টুকরো টুকরো করে মেরেছে তাকেও সেভাবে শাস্তি দিন।’। পরে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আসামিকে হেফাজতে নেন।
এরপর আবিরকে নিয়ে আদালতে এজলাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বিক্ষুন্ধ জনতার মুখে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসামিকে উত্তেজিত জনতার ভীড় সামলে আদালতের হাজতখানায় রাখেন।
এদিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো সূত্র জানায়, আজ আসামি আবিরের দু’দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে ফের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পিবিআই পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, শিশুটির মরদেহের খণ্ডাংশের খোঁজ এখনো মেলেনি। তাই আসামির ফের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
গত ১৫ নভেম্বর নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। শিশুটি তাঁর বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় মক্তবে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা সোহেল ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শিশু আয়াতের নিখোঁজের বিষয়ে পিবিআই তদন্ত করে আবির আলীর সম্পৃক্ততা পায়। অভিযুক্ত আবির শিশু আয়াতের পরিবারের মালিকানাধীন বাসার ভাড়াটিয়া।
গ্রেপ্তার আবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্ত যুবকের। কিন্তু ঘটনার দিন তাঁর মোবাইলে থাকা সিমটি কাজ না করায় সে শিশুটির পরিবারকে ফোন দিতে পারছিল না। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ১৬ নভেম্বর সকালে ভাড়া বাসাতেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
এরপর শিশুটির লাশ একটি ব্যাগে ভরে আবির তাঁদের ইপিজেডের পুরোনো ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সুযোগ বুঝে বাথরুমে আয়াতের লাশটি ছয় খণ্ড করে আলাদা ৬টি প্যাকেটে ভরা নেয়। পরদিন ১৭ নভেম্বর তিনটি প্যাকেট ২০ ফুট গভীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নালায় ও বাকি তিনটি প্যাকেট প্যাকেট সাগরে ফেলে আসে অভিযুক্ত আবির আলী। এই তথ্য পেয়ে শুক্রবার পিবিআই শিশুটির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারে নামে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত শিশুটির দেহাবশেষের কোনো কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।
মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.