নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতকানিয়ায় নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাবদ অর্থ গিলে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিম শরীফের বিরুদ্ধে। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুলে দুই উপজেলার ৬৭৯ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে নাস্তা বাবদ বরাদ্দ হয়েছে ৮০ টাকা, ৫ দিনের খাতা কলমের খরচ বাবদ ১০০ টাকা, দুপুরের খাবার বাবদ ৩০০ টাকা, আর গাড়ি ভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা।
কিন্তু শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকদের ২৫ টাকার একটি প্লাস্টিকের ফাইল, ১০ টাকার একটি খাতা এবং ৫ টাকার একটি কলম। ৫ দিনের খাতা-কলম বরাদ্দের ১০০ টাকা থেকে খরচ হয়েছে ৪০ টাকা। যদিও পাইকারি দরে এসবের মূল্য এরচেয়ে কম।
অন্যদিকে নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে একটি সাগর কলা, একটি ডিম, ১টি সমুছা, ১ কাপ রং চা, লেক্সাস বিস্কুট, ২৫০ মিলির পানির বোতল। ৬৯৯ জনের আয়োজনে যার আনুমানিক সর্বোচ্চ খরচ পড়বে ৪০ টাকারও কম। যেখানে নাস্তার বিল বাবদ বরাদ্দ ৮০ টাকা।
এসব হিসেবে নাস্তার বিল থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পকেটে ঢুকছে ২৭ হাজার ১৬০ টাকা, খাতা কলম বাবদ ১০০ টাকা থেকে ৪০ হাজার ৭৪০টাকা।
প্রশিক্ষন নিতে আসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ— দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাতকানিয়ায় খুঁটি গেড়ে বসেছেন এই কর্মকর্তা। সরকারি নিয়মনুযায়ী তিন বছরের বেশি সময় ধরে এক স্টেশনে থাকার সুযোগ নেই। সেখানে তিনি ১২-১৪ বছর! শিক্ষকরা তার ‘খুঁটির’ জোরে ভয় পান, কলমের খোঁচায় কখন কাকে কিভাবে তিনি বেকায়দায় ফেলেন বোঝা যায়না। প্রশিক্ষণের টাকাটাও তিনি মেরে খাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই।
এদিকে খাবার বিতরণ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন বড়ুয়া। খাবারের হিসেবে দিতে গিয়ে তিনি পাইকারি ৪ টাকা দরের লেক্সাস বিস্কুটের দাম দেখাচ্ছেন ১০ টাকা ধরেও ৮০ টাকার বিল মিলিয়ে দিতে পারছিলেন না প্রতিবেদকের কাছে। তার জোচ্চুরি হিসেবে সহযোগিতা করতে আসেন অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজে। যুক্তি দাঁড় করান ১০ শতাংশ ভ্যাটের।
সেসময় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবারও দাবি করেন এখানে দুর্নীতির কোন কিছু নেই। তিনি বলেন, চন্দনাইশ উপজেলা থেকে আমরা ভালো আছি। ওরা শুধু জিলাপি দিছে। আমরা ডিমও দিলাম। একইভাবে খাতাকলমের বিষয়েও তিনি বলেন ভ্যাট বাদ দিয়ে হিসাব করেন।
এভাবে একপর্যায়ে খাবার বিলের ব্যাপক গরমিল হিসেব দিলে ডিমপ্রতি ১৮ টাকা খবর দাঁড় করান খাবার কমিটির আহবায়ক সুমন বড়ুয়া। একপর্যায়ে তিনি বলেই ফেলেন ‘আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিম শরীফের নির্দেশেই কাজ করে যাচ্ছি আপনি কোথাও আমার নাম দিয়েন না।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদুল আলম বলেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।