পটিয়া প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের পটিয়ায় প্রায় সময় চোখে পড়ে প্রেস, সংবাদপত্র ও সাংবাদিক লেখা সিএনজি অটোরিক্সা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে
মিডিয়ার লোক পরিচয়ে টোকেন বাণিজ্য চলছে । চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ’র নির্দেশে রবিবার সকাল থেকে অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয় পটিয়ায়। প্রথম দিনেই ধরা পড়েছে সাংবাদিক লেখা ২টি গাড়ি। মালিক হিসেবে গাড়িতে লেখা ছিল সাংবাদিক আবদুল মালেক মানিকের নাম । সে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবত সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতারনা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এ পর্যন্ত মানিকের ৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে পটিয়া ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিয়েছে।
জানা যায়, পটিয়া পৌর সদরের বাস ষ্টেশন,ডাক বাংলো, থানার মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, উপজেলার সামনে এই কয়েকটি স্ট্যান্ড থেকে উপজেলার বিভিন্ন আন্ত:সংযোগ সড়কে প্রতিদিন কমপক্ষে শতাধিক অটোরিকশা চলাচল করে । এছাড়াও মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা নিষিদ্ধ হলেও প্রতিনিয়ত মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অটোরিক্সা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে মহাসড়কে নিষিদ্ধ এসব সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলে কিছুটা সমীহ করে পুলিশ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র মাসিক মাসোহারার ভিত্তিতে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
দক্ষিন চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, আনোয়ারা , চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলায় এসব সিএনজি এই জমজমাট ব্যবসা চালাচ্ছে ।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় পটিয়া ট্রাফিক পুলিশ প্রেস ও সংবাদপত্র লেখা গাড়িসহ সকল অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।
সিএনজি চালক মো: নাজিম বলেন, গাড়িটির মালিক আমি নিজেই। গাড়ির গায়ে সাংবাদিক আবদুল মালেক মানিককে মালিক হিসেবে লেখার কারন হচ্ছে পুলিশি হয়রানী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। বিনিময়ে মানিককে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। গত দুই মাস ধরে এ চাঁদা দিয়ে আসতেছি। আমাকে একটি পরিচয়পত্র পত্র দেওয়া হয়। সেখানে পদবী দেওয়া হয় সংবাদপত্র ডিউটি। পটিয়া ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) তরুন চাকমা জানান, ‘আমি যোগদান করেছি বেশ কিছুদিন পূর্বে। এখানে আসার পর থেকে ‘প্রেস’, ‘সাংবাদিক’ লেখা বিভিন্ন গাড়ির চলাচল বেশি দেখা যায়। সংবাদকর্মীরা এসব বিষয়ে অভিযোগ করার পর গাড়িগুলো আটক করা হয়। কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।