দিন-রাত মেশিনের শব্দ, হাক-ডাক। ছোট ছোট কক্ষে তিন-চারটা করে সেলাই মেশিন, আট-দশেক মানুষ। কেউ কাপড় কাটছে, কেউ সেলাই করছে, কেউ আবার ব্যস্ত কাপড় ইস্ত্রি করা নিয়ে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এভাবেই নতুন পোশাক তৈরির ধুম লেগেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দর্জি পাড়া খ্যাত ঐতিহ্যবাহী খলিফাপট্টিতে।
খলিফাপট্টির ব্যবসায়ীরা জানান, খলিফাপট্টির ব্যবসায়ীরা সারা বছর রমজানের ঈদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখানে সারা বছর যত কাজ হয়, তার ৮০ শতাংশ কাজ হয় ঈদকেন্দ্রিক।
খলিফা পট্টি বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন জানান, ঈদকে ঘিরেই মূলত এখানকার ব্যবসা জমে উঠে। বাচ্চাদের কাপড় ও মেয়েদের পোশাকই সবচেয়ে তৈরি হয়। অধিকাংশ কারখানায় এরইমধ্যে অর্ডার নেওয়া শেষ। এখন শুধু তৈরি পোশাক সরবরাহ করা বাকি।
তিনি জানান, ’৪৭-এর দেশভাগের পর আইয়ুব আলী সওদাগর নামে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এক দর্জি নগরীর ঘাটফরহাদবেগের এই এলাকায় ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যবসা প্রসারিত হয়ে এলাকাটি পরিচিত হয় খলিফাপট্টি নামে। এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী-শ্রমিক নোয়াখালী অঞ্চলের।
ভাই ভাই ফ্যাশনের কর্মচারী আবদুস সাত্তার জানান, ঈদের অর্ডার সামলাতে এখন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ভোর রাত ৩টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করছেন।
ফয়সাল গার্মেন্টের কর্মচারী মো. সোহাগ বলেন, আমরা ফ্রকের আইটেমই সবচেয়ে বেশি করি। গত কয়েকদিনে শুধু পাখি ফ্রক ও লেহেঙ্গা বিক্রি করেছি।
একই কথা জানালেন আঁখি ফ্যাশনের মালিক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, মার্কেটের চাহিদা বুঝেই পাইকাররা আমাদের অর্ডার দেয়।
রিফাত ফ্যাশনের মালিক নূর হোসেন জানান, বাচ্চাদের কাপড়গুলোর ডিজাইন নিয়ে ক্রেতাদের খুব একটা আগ্রহ নেই, তাই নিজেদের ইচ্ছামত ডিজাইন তারা করতে পারেন। কিন্তু মেয়েদের কাপড়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ইচ্ছা অনুযায়ীয় পোশাক তৈরি করতে হয়।