সাতকানিয়ায় চাঁদা না দেয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মেহেদী হাসান জুনাইদ (৩২) নামে এক আইনজীবীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনজীবী মেহেদী হাসান জুনাইদ বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— সাতকানিয়া আফজলনগর এলাকার আবুল হাশিমের ছেলে মো. মহিউদ্দিন, তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার ও ভাই মাহামুদুল হক এবং মো. ইয়াহিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রায় সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে মানুষের সাথে অযাচিতভাবে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়। মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, টাকা হাতানো তাদের পেশা ও নেশা। প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার সকালে আদালতে আসলে আইনজীবী সমিতির সম্মুখে অভিযুক্তরা আগে থেকে অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে আইনজীবী মেহেদীকে আটক করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অতর্কিত হামলা করে গলা চেপে ধরে তাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। এরপর তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি ভাবে লাথি, কিল, ঘুষি মারতে থাকে। পরে আইনজীবী সমিতি নেতৃবৃন্দ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু মারধরের সময় তার ব্যবহৃত আইফোন, মানিব্যাগ, মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা করে সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতি। অ্যাডভোকেট সুজন পালিতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দীন আহমদ চৌধুরী কচির। আরও বক্তব্য রাখেন এডভোকেট শাহদাত হোসেন হিরু, অ্যাডভোকেট জসিমসহ অন্যান্য আইনজীবীরা। এ সভা থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।