সাতকানিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণ, এবার অবৈধভাবে মাটি ভরাটের আশংকা

সাতকানিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ইউএনও অফিসের সামনে সীমানা প্রাচীর ভেঙে এ গেইট নির্মাণের পরও উপজেলা প্রশাসন নীরব থাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অন্যদিকে, এভাবে সরকারি সম্পদ বেহাত হওয়ার পরও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ইউএনও’র  নীরবতা আদৌ কতটুকু যৌক্তিক, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে সচেতনমহল মনে করছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নব নির্মিত ভবনের প্রবেশ পথের মূল গেইটের সীমানা প্রাচীরের বাইরে এলাকার প্রভাবশালীমহলের পাঁচটির অধিক প্লট রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে ওই মহল উপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙে তাদের প্লটে চলাচলের জন্য গেইট নির্মাণ করতে  সাবেক ইউএনওদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। সম্প্রতি ওই মহল উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণ করেন।

 

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ হয়েছে ১০-১২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি লোহার গেইট। গেইটে ঝুলে আছে একটি নতুন তালা। গেইটের পরে দেখা যায় খালি পড়ে আছে পাঁচটির অধিক প্লট বিশিষ্ট জায়গা। সেখানে কথা হয় একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তির সাথে।

তারা বলেন, প্লটগুলোতে প্রায় ৮০ শতকের মত জায়গা রয়েছে। যে জায়গার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

 

নাজ প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন-উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত ও পরিবার নিয়ে অবস্থানরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, গেইটটি নির্মিত হওয়ার ফলে উপজেলা কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকা দাপ্তরিক নথিপত্র ও আবাসিকভাবউপজেলা কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণের জন্য ওই প্রভাবশালীমহল প্রায় ২৩ বছর ধরে অনেক ইউএনওকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা এই পিরিয়ডে সক্ষম এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে নতুন গেইট নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নজরে নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা-তুজ- জোহরা বলেন, বিষয়টি আমি দেখলাম। উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেইট নির্মাণের আইনগত কোন ভিত্তি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখি কে বা কারা গেইটটি নির্মাণ করেছেন। তবে যাতায়াত বা মুখ বের করার জন্য গেইট নির্মাণ করতে পারে। তবুও বিষয়টি আমি এনালাইসিস করে দেখছি।

সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ মোতালেব সিআইপি বলেন, যারা গেইটটি করেছে জায়গাটি তাদের। এ রকম গেইট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পূর্ব দিকে আরও রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.