বিট কর্মকর্তা জোবায়েরকে মাদক সেবনে বাধা,নামাজি প্রহরীকে ছুটিতে যেতে নির্দেশ- এসিএফ আবরারুর

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের নারায়ণ হাট রেঞ্জ -

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ণহাট রেঞ্জের দাঁতমারা বিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, তার নেতৃত্বে বন উজাড় এবং এবং বন প্রহরী নামাজ পড়তে গেলে বাধা ও নির্ধারিত বন প্রহরীর কোর্ট গায়ে দিয়ে বের হতে বাধাসহ বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এবং মাদক সেবনে বাধা ও অনিয়মে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করায় বনপ্রহরীকে মারধরও করেন দাঁতমারা বিট কর্মকর্তা জোবায়ের।

এ ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর এক বন প্রহরীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা বন বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাঁতমারা ইউনিয়নের গ্রামপাড়া এলাকায় বক্কর মেম্বারের নেতৃত্বে বন বিভাগের গাছ কাটার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই চাপের মুখে পড়েন বিট কর্মকর্তা জুবায়ের। তবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অনিয়ম আঁড়াল করতে তিনি নবযোগদানকৃত বন প্রহরী মো. আব্দুস সাত্তারকে টার্গেট করেন।

তাই এই সন্দেহের জেরে জুবায়ের শুধু দায়িত্ব পালনে বাধা দেননি, বরং আব্দুস সাত্তারকে শারীরিকভাবে আটকে রাখেন। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে বন প্রহরী সাত্তার জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। দাঁতমারা বিটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সাত্তারকে কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’ করে রাখার হয়েছে। বাজার, মসজিদ কিংবা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগেও বিধিনিষেধ, এমনকি সরকারি দায়িত্ব থেকেও দূরে সরিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

আব্দুস সাত্তার বলেন, বন বিভাগের গাছ বিক্রির একটি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তিনি চাপ, হুমকি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাগানে ব্যাপক গাছ কাটার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, সোনারখিল ও বটতলি এলাকার দুইটি আকাশমনি বাগান বিট কর্মকর্তার যোগসাজশে কেটে সাবাড় করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও রাতে বিরাতে বিট অফিসের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিশ্রামাগারে গিয়ে মাদক সেবন করেন বিট কর্মকর্তা জুবায়ের।

তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন। তিনি বলেন, সে(সাত্তার) এখানে বদলি হয়ে এসেছে মাত্র ক’দিন হলো। আসার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ঝামেলা সৃষ্টি করছেন। আজ তিনি নিজেই দা নিয়ে সহকর্মীদের ধাওয়া দেন। মাদক সেবনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এসব কাজে আমি জড়িত নই।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বন সংরক্ষক খান মুহাম্মদ আবরারুর রহমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ এ বার্তা পাঠিয়েও তার কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে সোনারখীলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আকাশমনি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, জোবায়েরের নেতৃত্বে হাজার হাজার আকাশমনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ঘটনায় বক্কর মেম্বারের সাথে অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ ওঠেছে এই জোবায়েরের সাথে।

স্থানীয়রা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন বিট কর্মকর্তা জোবায়ের একাই সংরক্ষিত বনভূমির আকাশমনি গাছের বাগান বিক্রি করেননি এর সাথে জড়িত সহকারী বন সংরক্ষক ও (এসিএফ)নারায়ণহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মো:আবরারুর রহমান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিট কর্মকর্তা জোবায়ের মূলত নারায়নহাট সদর বিটের দায়িত্ব পালন করার সময় দূর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত লাভ করেন।এবং দূর্নীতি চক্রের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন -তারই পুরস্কার হিসেবে তাকে দাঁতমারা বিটের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

এদিকে বনবিভাগে ৩৩বছর ধরেই বন প্রহরী হিসেবে দায়িত্বপালন করা বনবিভাগে নামাজী বন প্রহরী হিসেবে পরিচিত  সাত্তারকেই উল্টো ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগ লুটেপুটে খাওয়া সহকারী বনসংরক্ষক মি.আবরারুর।

 

অথচ! দোষ করেছেন বিট কর্মকর্তা জোবায়ের,ফলে জোবায়ের অফিসে বসেই মাদক সেবন করার ধারাবাহিক সুযোগ দেয়ার কারণ হিসেবেই কি ভিক্টিম বন প্রহরী নামাজী সাত্তারকে উল্টো ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এসিএফ আবরারুর?বনবিভাগ জুড়ে এই দ্বিচারিতামূলক সিদ্ধান্ত ও ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের বিষয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা

 

এদিকে দাঁতমারা বিটের বিট কর্মকর্তা জোবায়েরের দূর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করেন মূলত এফজি খলিল,এফজি সুমন ও এফজি রিয়াজরা।

এরা তিনজনের ডিউটি করাতকলের মালিক আর গাছ ব্যবসায়ীদের সাথে।

সারাদিন তারা করাতকল ডিউটি করে সন্ধ্যায় বিট কর্মকর্তা জোবায়েরকে হিসাব বুঝিয়ে দেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.