চবিতে মুষলধারে বৃষ্টিতে এক অনুষদ মানবিক, আরেক অনুষদ অমানবিক

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) এ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা (৩য় ও ৪র্থ শিফট) অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার (১৭ মে)।

দুপুরে চতুর্থ শিফটের পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে মুষলধারে বৃষ্টি আসে ক্যাম্পাসে। এ সময় উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থী হলে প্রবেশ করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে আসা হাজারো অভিভাবক পড়ে যায় বেকায়দায়।

এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সিরাজ উদ দৌলা তাদের প্রতি বাড়িয়ে দেন মানবিকতার হাত। কিন্তু কয়েক শ’ গজ দূরের বিবিএ অনুষদ কর্তৃপক্ষ একই বিষয়ে হয়ে উঠে অমানবিক।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ কর্তৃপক্ষ ওই অনুষদের অডিটোরিয়াম খুলে দিয়ে অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়। কিন্তু বিবিএ অনুষদ কর্তৃপক্ষ তাদের অডিটোরিয়াম খুলে না দিয়ে অভিভাবকদের দাঁড় করিয়ে রাখে অনুষদের বাইরে। এতে প্রায় দুই শতাধিক অভিভাবক ভিজে যান মুষলধারে নামে বৃষ্টিতে।

অভিভাবকদের বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জোর অনুরোধ করলেও বিবিএ অনুষদ কর্তৃপক্ষ সে অনুরোধ রাখেনি। তবে কিছু অভিভাবককে অনুষদের সামনের রাস্তায় থাকা ছোট ছাদের নিচে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও ঝড়ো হাওয়ায় তারাও ভিজে যান।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে দুপুর দুইটার দিকে দেখা গেছে, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভিজছিল অভিভাবকরা। এরই মধ্যে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে ভর্তিচ্ছুরা। ওই সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এগিয়ে এলেন কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে। তিনি বৃষ্টির অবস্থা দেখেই অডিটোরিয়াম খুলে দিতে বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। এ কথা বলার সাথে সাথেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় কয়েক শ অভিভাবক অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে নিজেদের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কবল থেকে রক্ষা করে। তবে অভিভাবকদের বড় একটি অংশকে অনুষদের সামনে ছাদের নিচেও অবস্থান নিতে সুযোগ দিতে দেখা গেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বিবিএ অনুষদের সামনে দেখা গেছে, রাস্তার উপরই কয়েক শ অভিভাবক ভিজছেন বৃষ্টিতে। এদের মধ্যে পুরুষ যেমন আছেন, নারীও আছেন। টানা দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে প্রায় সকল অভিভাবকই ভিজে জবুথবু। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরও নিচতলায় থাকা অডিটোরিয়াম খুলে দেওয়া হয়নি তাদের জন্য।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, বিবিএ অনুষদের বাইরে দুই শতাধিক অভিভাবক দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনুষদ কর্তৃপক্ষকে আমরা খবর পাঠাই আমাদের বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা করতে নিচতলার অডিটোরিয়াম খুলে দিতে। নিচতলায় যেদিকে অডিটোরিয়াম সেখানে কোনো পরীক্ষার হল ছিল না। পরে শুনলাম অভিভাবকদের কষ্ট দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ও নাকি অডিটোরিয়াম খুলে দিতে অনুষদ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান। তবুও বিবিএ অনুষদ কর্তৃপক্ষ একটু সহানুভূতি দেখালো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও যদি এমন অমানবিক আচরণ থাকে, তাহলে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য কিভাবে আদর্শ হবেন?

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থাকা কয়েকজন অভিভাবক জানান, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হতেই সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন মহোদয় অভিভাবকদের সামনে আসেন। তিনি সবাই অডিটোরিয়ামে আসার অনুরোধ জানান। এ সময় কয়েক শ অভিভাবকের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করে।

একজন অভিভাবক বলেন, এটুকু সুযোগ না পেলে আমরা সকলেই ভিজে যেতাম। বৃষ্টিও ভারি ছিল, সাথে ছিল ঝড়ো হাওয়া। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি থাকায় আমাদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কষ্টসাধ্য হতো। অডিটোরিয়াম খুলে দেওয়ায় আমরা সমাজবিজ্ঞান অনুষদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিবিএ অনুষদের ডিন প্রফেসর হেলাল উদ্দিন নিজামী ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সিরাজ উদ দৌলার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.