যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা

চট্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে তিনমাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. মহিউদ্দিন (২৮) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক ফেরদৌস আরা এ রায় দেন। অভিযোগে প্রমাণিত না হওয়ায় দণ্ডিত মহিউদ্দিনের বাবা মো. নুরু ও মা জরিনা বেগমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের মো. নুরুর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার আরিফুল ইসলাম।

তিনি সিভয়েসকে বলেন, আসামি মো. মহিউদ্দিন হাজতে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। পরে তাকে সাজামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর একই ইউনিয়নের আবু বক্কর ছিদ্দিকের মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি মিলে যৌতুকের জন্য সুমিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট সকালে আবু বক্কর ছিদ্দিক খবর পান, তার মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে মারা গেছে।

খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন মেঝেতে অন্তঃস্বত্ত্বা সুমি’র লাশ উপুড় হয়ে পড়ে আছে। কিভাবে মৃত্যু হয়েছে এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। তিনি স্থানীয় দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় আবু বক্কর ছিদ্দিকের দায়ের করা মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (ক) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে আটজন ও দু’জনের সাফাই সাক্ষ্য নিয়ে আজ বুধবার (১৯ জুলাই) এ রায় দিয়েছেন আদালত।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.