পটিয়ায় ১৮ বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মী কারাগারে

ঢাকা থেকে আটক আরো ৩ জন

পটিয়া প্রতিনিধি:

সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আগের রাত থেকে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে ১৭ বিএনপি ও ১ জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত তাদেরকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার। শনিবার ঢাকার নয়াপল্টনে মহাসমাবেশে বিএনপির সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের প্রাণঘাতী সংঘাতের পর পণ্ড হয়ে যায় দলটির কর্মসূচি। এরপর রোববার সারাদেশে হরতালের ঘোষণা দেয় বিএনপি। ওই দিনই নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জামায়াতও দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়। রোববার হরতালকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রাস্তায় অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হলেও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারনে পটিয়ায় কোন ধরনের সহিংসতা করতে পারেনি বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীরা। এদিকে, গ্রেফতারকৃত ১৮ জনকে পৃথক তিনটি বিস্ফোরণ মামলায় আটক দেখিয়ে রবিবার বিকেলে পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বেগম তাররাহুম আহমেদ তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আটকৃতরা হলেন, সালা উদ্দিন (৪০), আবুল কালাম (৫৪), সিরাজুল আমিন (৫০), মো. নাছির (৩৪), ইমরান হোসেন রিমন (২৮), সাইফুল ইসলাম (৪৫), মো. মুছা (৪২), ইরফান উদ্দিন (২৫), সৈয়দ হাজী (৪৫), নাছির উদ্দীন (৫৬), আবদুল শুক্কুর (৫৪), নুর মিয়া (৪৭), মোজাম্মেল হক (৪০), নাছিরুল ইসলাম (৩৫), সালাহ উদ্দিন (২৮), আবুল হোসেন (৫৩), কামাল উদ্দিন ৫২)। এছাড়াও পটিয়া উপজেলা বিএনপি সূত্রে আরো জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে বাড়ী ফেরার পথে পটিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রেজাউল করিম নেছার চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী ও যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম পটলকে গ্রেফতার করেছে পল্টন ও শান্তিবাগ থানা পুলিশ। পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকায় নাশকতা ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে পটিয়ায় গাড়ি থেকে নামার সময় ১৮ বিএনপি ও জামায়াত নেতা কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জনের নামে একটি বিস্ফোরণ আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকী ১০ জনকে পূর্বের পৃথক দুটি বিস্ফোরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সবাইকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.